রাজাপাক্ষে পরিবারকে রক্ষা করতেই কি রনিলকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে?

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জনবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে বিদায় নেওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ষষ্ঠবারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রি হলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার ঝানু রাজনীতিক হিসেবে তার যেমন পরিচিতি, তেমনি পশ্চিমাদের কাছেও তার রয়েছে কদর, আবার প্রতিবেশী প্রভাবশালী দেশ ভারতের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের কালে বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাক্ষে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর বিরোধী একটি দল থেকে রনিলকে প্রধানমন্ত্রী করে দৃশ্যত জনবিক্ষোভ প্রশমন করতে চাইছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে।

প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া রনিলের জীবনের ৪৫ বছরই পার্লামেন্টে পদচারণা। তিনি প্রথম এমপি হন ১৯৭৭ সালে, মাত্র ২৮ বছর বয়সে।

‘কলম্বো এলিট’ রনিলের বাবা বিশিষ্ট আইনজীবী এসমন্ড বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তার মায়ের দিকের আত্মীয় জুনিয়াস রিচার্ড জয়াবর্ধনেকে এখন পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ধরা হয়।

জয়াবর্ধেনে ও প্রেমাদাসা সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার রনিল। প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমদাসা খুন হওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ১ মে প্রথম শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান রনিল। তিনি পাঁচবার এ দায়িত্ব নিলেও কোনোবারই পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

তার দল ইউএনপির ভরাডুবি ঘটে ২০২০ সালের নির্বাচনে, রাজাপাক্ষেদের দল এসএলপিপির কাছে। সেবার একটি আসনেও জয় পায়নি রনিলের দল। আর কলম্বোয় সেটাই ছিল রনিলের প্রথম হার।

সেই শোচনীয় হারের পর গণমাধ্যম রনিল বিক্রমাসিংহের রাজনৈতিক জীবনের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। দলীয় সভাপতির পদ ছাড়ার জন্যও দাবি তুলেছিলেন ইউএনপির নেতারা।

কিন্তু রনিল তাতে কান না দিয়ে পদ আঁকড়েই ছিলেন, শুধু তাই নয়, গত বছর মনোনীত সংসদ সদস্য হিসেবে পার্লামেন্টেও ফেরেন। পার্লামেন্টে এখন তার দলের একমাত্র সদস্য তিনি, আর তিনিই এখন প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে রনিলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বন্ড কেলেঙ্কারিতে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ডুবতে বসা রনিলের পাশে তখন দাঁড়িয়েছিলেন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। আর মাহিন্দার বিপদে রনিলও পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন বলে কথা আছে।

রনিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহিন্দার টুইট তার সত্যতাই তুলে ধরে। পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী টুইটে জটিল এই মুহূর্তে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সফলতা কামনা করেছেন।

সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, রাজাপাক্ষে পরিবারকে রক্ষা করতেই রনিলকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।

আরও পড়ুন...

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই রনিল বিক্রমাসিংহে

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে

মাহিন্দা রাজাপাক্ষে ও তার ১৫ মিত্রের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি