বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন তার দলের নেতা কর্মীরা দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে।’
শনিবার দুপুরে দিনাজপুর শহরের ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে দিনাজপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘যে সকল নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে পাচার করেছেন তাদের আওয়ামী লীগে জায়গা হবে না’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা দুর্নীতি করে টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আজ আপনাদের দুর্নীতির সীমা এতটাই বেড়ে গেছে যে, র্যাবের মতো একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থগিতাদেশ দিয়েছে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে দেশ একটা কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের জনগণ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আদায়ের জন্য আগে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তাহলেই দেশে জনগণের সরকার আসবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭১ সালে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তির দেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের কথা বললেও বাস্তবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী কাজ করছে। ’৭৫ সালের মতো এখনো সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। যে কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ স্বৈরাচার রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। এখন টেলিভিশন, পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দেখলে শুধু হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানির খবর ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।’
দিনাজপুরের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার আজকে প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে দলীয়করণ করেছে এই সরকার। দিনাজপুর সংগ্রামের জনপদ, এই অঞ্চলের মানুষ সংগ্রাম করতে জানে। তাই এই জেলায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পদচারণা ছিল। এমনকি তিনি নিজের জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিয়েছেন দিনাজপুরের কন্যা বেগম খালেদা জিয়াকে। কিন্তু তিনি আজ মিথ্যা মামলায় গৃহবন্দী হয়ে আছেন। গণতন্ত্রের মাকে মিথ্যা মামলা থেকে বের করে আনতে আন্দোলনে বিএনপি নেতা কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’
দিনাজপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রেজিনা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুল হাবিব দুলু, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এজেড এম রেজওয়ানুল হক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকছেদ আলী মঙ্গলিয়া, সম্মেলন ও কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব এ্যাড. আনিসুর রহমান চৌধুরী, জেলা তাঁতি দলের আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম প্রমুখ।
জানা গেছে, জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাতটি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ১৩টি উপজেলার ২০টি ইউনিটের ১৯১৯ জন কাউন্সিলর ও ডেলিগেট গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি।