ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের পর এবার সুইজারল্যান্ডও তার নিরপেক্ষতার রাজনীতি থেকে সরে আসছে। গত কয়েক দশক পর দেশটি এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযানে শঙ্কিত হয়ে সুইজারল্যান্ড তার নিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে এসে পশ্চিমমুখী হতে চাইছে।
সুইজারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আলোকে ন্যাটোর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনাটির বিস্তারিত এখনো সুইস প্রতিরক্ষা দপ্তর রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করেনি। সুইস প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা নীতি বিভাগের প্রধান পায়েলভি পুল্লি গত সপ্তাহেই বলেন, ‘যেভাবে নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে, তাতে আমাদের নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।’ আর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিওলা আমহার্দ সরাসরি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের উচিত যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা। তবে তিনি ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
সুইজারল্যান্ড তার নিরপেক্ষতার নীতির জন্য বিখ্যাত। এ নীতির কারণে গত দুই বিশ্বযুদ্ধ এগিয়ে যেতে পেরেছিল দেশটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিকে নিজেদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়, যা অতীতে দেখা যায়নি। সুইস ও ন্যাটোর কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন প্রায়ই বৈঠক হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার নীতি পৃথিবীর অনেক দেশের জন্যই অনুকরণীয়। কিন্তু সুইসরা এখন যদি তাদের নীতি থেকে সরে আসে, তাহলে বুঝতে হবে পৃথিবী নতুন এক বলয়ে প্রবেশ করছে, যেখানে নিরপেক্ষতা বলে কিছু থাকবে না।
রয়টার্স বলছে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে প্রবেশবিষয়ক সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে সুইজারল্যান্ড। ওই দেশ দুটি ন্যাটোতে প্রবেশ করলে সুইস পার্লামেন্টে ন্যাটোতে প্রবেশসংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপিত হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে পার্লামেন্টের ডানপন্থিরা। কারণ দেশটির ডানপন্থিরা অনেক দিন ধরেই চাইছে নিজেদের দেশকে ব্যাপকমাত্রায় সামরিকায়ন করতে। ১৯০৭ সালে হেগ কনভেনশনে সুইজারল্যান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে তারা জড়াবে না। একই সঙ্গে কোনো পক্ষকেই সৈন্য অথবা সামরিক উপকরণ দিয়েও সাহায্য করবে না। এমনকি কোনো পক্ষই সুইজারল্যান্ডের ভূমি ব্যবহার করতে পারবে না। এ বিষয়গুলো দেশটির সংবিধানেও লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুইসরা এখন পশ্চিমমুখী হলে একাধিক স্তরে তাদের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে হবে।