মাটি কেটে নিচ্ছে লুটেরারা ধসে পড়ছে কৃষকের জমি

সাভারে কৃষিজমি থেকে জোর করে মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানিয়ে এক মাসেও প্রতিকার পাননি কৃষকরা। বরং প্রশাসনের বিকারহীনতায় মাটিদস্যুরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে দিনে-রাতে অন্যের জমি থেকেও মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।

মাটিদস্যুরা এলাকার প্রভাবশালী ও খারাপ প্রকৃতির লোক হওয়ায় এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা এখন অসহায় চোখে শুধু দেখেন তাদের মাটি কীভাবে যাচ্ছে ইটভাটায়। আর নিজেদের চাষবাসের জমিকে গভীর পুকুরে পরিণত হতে দেখে কেবল চোখ মোছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের সালাউদ্দিন মিন্টু গত ২০ এপ্রিল মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেন। যার অনুলিপি দেওয়া হয় ভূমিমন্ত্রী, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও সাভার মডেল থানায়। মাটিখেকোদের হুমকি-ধমকি থেকে রক্ষায় সাভার মডেল থানায় আলাদা একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন সালাউদ্দিন মিন্টু।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আমিনবাজার ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত সাদু মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম ওরফে কালা কাশেম উত্তর কাউন্দিয়ার সালাউদ্দিন মিন্টুর কৃষিজমির পাশ থেকে ভেকু দিয়ে ২০-২৫ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। ফলে সালাউদ্দিন মিন্টুসহ অন্যান্য কৃষকের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকের জমি ভেঙে গর্তে পড়ে যাওয়ায় ফসল এবং জমি উভয়েরই ক্ষতি হচ্ছে। এ ঘটনায় বাধা প্রদান করা হলেও মাটিখেকোরা কোনো কথা না শুনে রাতের আঁধারে মাটি লুট করে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কৃষিজমিগুলো গভীর পুকুরে পরিণত হয়েছে। এসব বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হলেও আজ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী জমির মালিক সালাউদ্দিন মিন্টু বলেন, ‘আবুল কাশেম ওরফে কালা কাশেম আমার ইটভাটার পাশে অবস্থিত লোকজনের কৃষিজমি থেকে জোর করে মাটি নিয়ে গেছে। আমি বাধা দেওয়ায় বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

অপর জমির মালিক রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমার চার বিঘা কৃষিজমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসী আবুল হাসেম ও আবুল কাশেম। মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে উল্টো আমাকে জমিতে গেলে পুঁতে রাখার হুমকি দিয়েছে।’

অভিযুক্ত আবুল কাশেম বলেন, ‘নিজের আট বিঘা জমির মধ্যে চার বিঘা জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়েছি। অন্য কোনো মানুষের জমির মাটি কাটিনি। দিনে এবং রাতে মিলিয়েই আমি আমার বাপের জমি থেকে মাটি কাটছি।’

আমিনবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রকিব আহমেদ বলেন, ‘কৃষিজমির মাটি কাটা এবং জমি ভেঙে পড়ার বিষয়ে উভয় পক্ষেরই অভিযোগ পেয়েছি। তাদের নোটিস করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিগগিরই মাটিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।