বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কথা তুলে বিদেশিরা যে লজ্জা দিত সেই লজ্জা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে মুক্ত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, কপালে লাগা বঙ্গবন্ধু হত্যার কালো দাগ বঙ্গোপসাগরের সব পানি দিয়ে ধুলেও যেত না, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। এখন বিদেশিদের কড়া ভাষায় উত্তর দিতে পারি। বলতে পারি, আমাদের বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশকে পরিবর্তন করেছেন। এখন আমরা উন্নয়শীল দেশ।
গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : ইতিহাসের পুনর্র্নির্মাণ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, পঁচাত্তরের সেই সময়টা আমাদের ইতিহাসে সবসময়ই কাটা দাগের মতো লেগে থাকবে। সে সময় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবারও পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তাদের। আর এর সঙ্গে জড়িত ছিল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা এবং একাত্তরে হেরে যাওয়া রাজাকাররা। পঁচাত্তরের পর বিদেশিরা আমাদের ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি’ বলে লজ্জা দিত। তবে সেই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেমিনারে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানে সভাপতিত্বে সেমিনারের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন জরুরি ছিল। তিনি দেশে ফিরেছেন বলেই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। তিনি ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার মীমাংসার মতো কাজগুলো করেছেন।
ফোরামের সহ-সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, শেখ হাসিনা মৌলবাদী রাষ্ট্র হওয়ার পথ থেকে দেশবাসীকে বাঁচিয়েছেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ আজম, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।