পিপাসা নিবারণের ট্রেন...

আফরোজের প্রতিদিন স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। হাতে চালানো একটা ঠেলাগাড়িভর্তি বোতল নিয়ে পানির জন্য অপেক্ষা করতেই দিনের একটা বড় অংশ চলে যায় তার। রাজস্থানের মেয়ে আফরোজ। রাজ্যের চলমান পানি সংকটের বাস্তবতার মধ্যেই তার জন্ম। জন্মের পর বাবার মুখে যত গল্প শুনেছে তার মধ্যে একটা বড় অংশই ছিল পানি নিয়ে। এই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও চলে পানির জন্য অপেক্ষা। একটি বিশেষ ট্রেন আসবে পানি নিয়ে, সেই ট্রেন যতটুকু সময় থামবে, এর মধ্যেই পানি সংগ্রহ করতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে জলবায়ু সংকটের দৃষ্টান্ত প্রকট হয়ে উঠেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চল প্রায় পানিশূন্য। সরকারের দেওয়া পানি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হয় ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের। এতে একদিকে যেমন ওই অঞ্চলগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পাল্টে যাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে জীবন-যাপন ব্যবস্থা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে ১৩ বছর বয়সী আফরোজ বলছিল, ‘এখানে প্রায় সব সময় প্রচণ্ড গরম। পানির জন্য এই সংগ্রামও সব সময়ই করতে হয় আমাদের। গত এপ্রিলের পর কবে সব পাত্র ভর্তি করে পানি নিতে পেরেছি তা আমি ভুলে গেছি।’ প্রায় কয়েক লাখ মানুষকে ২০ লাখ লিটার পানিবাহী ট্রেনটির ওপর ভরসা করতে হয়। গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

প্রত্যেক দিন শতাধিক মানুষ যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু, প্লাস্টিকের ক্যান নিয়ে লাইন ধরে থাকে। সেনাবাহিনীর পোশাক ছাপ দেওয়া ট্রেনটি থেকে হোস পাইপে করে পানি দেওয়া হয়। সব সময়ই ওই অঞ্চলে এভাবেই পানি দেওয়া হয়। কিন্তু এবারের এপ্রিল মাসের পর থেকে পানি চাহিদার তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয় রেল কর্র্তৃপক্ষ দাবি করছে। যোধপুর থেকে পানি নিয়ে ট্রেনটি যায় ৬৫ কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে।

আফরোজের মা নূরজাহান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘আমি চাইলেও অন্য পরিবারের কাছে সাহায্য চাইতে পারি না। আমাদের এখন খাবার ও পানির জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে। এতে আমার শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। আমি আসলে কী করতে পারি? নিজে একা আমি এতগুলো পানির ক্যান নিয়ে যেতে পারি না।’