সৈয়দপুরে জামাইয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, শাশুড়িসহ আটক ৪

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্বশুর বাড়িতে আলমগীর হোসেন আঙ্গী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের শাশুড়িসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় সৈয়দপুর পৌরসভার উত্তরা আবাসন এলাকার ২৪/এ ব্লক নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া এলাকার মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। 

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ি আবেদা খাতুন হাজিয়ানি, রুবেল, জুলফিকার সহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়েছে।

জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে নজরুল ইসলামের মেয়ে উত্তরা ইপিজেডের শ্রমিক আতিকা পারভিনের সাথে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সে শ্বশুরবাড়িতে থাকত। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

ঘটনার দিন নিহত আলমগীর প্রতিবেশীর বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে ইজিবাইক চালাতে চলে যায়। অসুস্থ বোধ করায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সে বাড়ি ফিরে আসে। ওই সময় তার স্ত্রী কর্মস্থল উত্তরা ইপিজেডে অবস্থান করছিল।

তার শাশুড়ি ঘরের বিছানায় জামাইয়ের গলাকাটা ও রক্তমাখা দেহ দেখে চিৎকার করলে এলাকাবাসী রুবেল, জুলফিকার ছুটে আসে। তারা দ্রুত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী আতিকা পারভীন বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে স্বামী আলমগীর ঘুমের ঘোরে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। এ ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তিনি মনে করেন।

তবে নিহতের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম এটি আত্মহত্যা নয় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) সারোয়ার আলম জানান, মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়িসহ ৪ জনকে থানায় নেয়া হয়েছে।