খুলনার ফুলতলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির তৎপরতা কমলেও এখন সেখানে আতঙ্কের আরেক নাম কিশোর গ্যাং। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা এখন পলাতক। তবে আত্মগোপনে থেকে এলাকার কিশোরদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। আর এসব দল ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর তথ্যে এবং সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
গত ৩১ মার্চ ফুলতলায় এমএম কলেজের ভেতরে ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলিফ রোহানকে দিনে-দুপুরে হত্যা করা হয়। রোহান হত্যার পরপরই ফুলতলায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
রোহান হত্যার ঘটনায় করা মামলার বাদী তার বাবা সৈয়দ আবু তাহের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা (কিশোর গ্যাং সদস্যরা) আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এখন আমার পরিবারের বাকি সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করছে, যাতে মামলা চালানোর কেউ না থাকে। আমি বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত পাচ্ছি, এসব কিশোরের মদদে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক একটি গোষ্ঠীও ওই কিশোরদের বাঁচাতে চেষ্টা করছে।’
ফুলতলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায়ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি নজরে এসেছিল সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার। সংস্থাটির এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলায় ২০ থেকে ২৫ জন কিশোরের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ‘হাসনাত বাহিনী’ নামে একটি দল। এদের নেতৃত্বে এলাকায় মাদক কারবার, জুয়া খেলা, ছিনতাই, স্কুলছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, গভীর রাতে মোটরসাইকেল মহড়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চলে। হুমকিধমকি, অপমান-অপদস্থ ও মারধরের ভয়ে কেউ বিরোধিতা করে না, থানায় অভিযোগ দিতেও সাহস পায় না।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন পলাতক নেতা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে মূলত ওই কিশোর গ্যাং তৈরি করেছে। এসব কিশোরের মধ্যে কেউ কেউ বালু ব্যবসায়ী, পানের দোকানি, ভ্যানচালক, পাপড় বিক্রেতা ও মিলশ্রমিকের মতো পেশায় জড়িত। তাদের বিভিন্ন সময়ে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে চরমপন্থি সংগঠনের পলাতক নেতারা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা নেতিবাচক কার্যক্রম চালায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলতলা থানার ওসি ইলিয়াস তালুকদার বলেন, ‘ফুলতলার কিশোর গ্রুপের সদস্যরা একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্রশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় কলেজছাত্র আলিফ রোহান খুনের ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রুপের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি নেতাদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে।’