বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পদ্মা ব্রিজ থেকে টুস করে ফেলে দেওয়ার যে কথা বলেছেন তা এটেম্পট টু মার্ডার। এটা স্পষ্টই হত্যার হুমকি।
রবিবার রাজধানীতে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরুর প্রাক্কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনকে প্রধানমন্ত্রীর কটূক্তির প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি চানখাঁরপুলের গিয়ে শেষ হয়।
রিজভী বলেন, “খালেদা জিয়াকে পদ্মা ব্রিজে নিয়ে ব্রিজ থেকে নদীতে টুস করে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিষয়টি রীতিমতো ‘এটেম্পট টু মার্ডার’। এটা স্পষ্টই হত্যার হুমকি। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিক সম্পর্কে শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলেছেন তা গোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। দেশবাসী তার কথায় বিস্মিত।”
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য যাবতীয় ভব্যতা ও শিষ্টাচারকে অতিক্রম করেছে। তার বক্তব্য সরাসরি নারীবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী। গণতান্ত্রিক সভ্য দেশে কোনো প্রধানমন্ত্রীর মুখ দিয়ে এমন বক্তব্য বের হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো। তিনি সরাসরি দেশের একজন সম্মানিত ও সাবেক নারী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দেশের জনগণ একাধিকবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। দেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সামনের সারিতে আছেন। তার সময়ই মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়। এ ছাড়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি আপসহীন। অথচ শেখ হাসিনা তাকে নিয়ে শুধু বাজে মন্তব্যই করেননি, খালেদা জিয়াকে নিয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষও ছড়িয়েছেন। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই।’
মিছিলে রিজভী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান নাদিম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. জাহেদুল কবির জাহিদসহ অনেক নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছিলেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে দিয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।