বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ দাবি

জনগণের অর্থের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা। 

তারা ভারতে গ্রেপ্তার অর্থ পাচারকারী প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার এবং আটকে যাওয়া টাকা ফেরত পেতে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। 

রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রেসক্লাবের নিচে একটি মানববন্ধন করেন তারা।

সংবাদ বম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন মো. আতিকুর রহমান আতিক। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের নিঃস্ব-অসহায় জীবনের কথা বিবেচনা করে যেন পিপলস লিজিংয়ে রাখা অর্থ দ্রুত ফেরত পেতে পারি সে জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

একই সঙ্গে অবিলম্বে পিপলস লিজিং লুটপাটে জড়িত পি কে হালদারসহ দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

পি কে হালদারকে দেশে বিচারের আওতায় আনা এবং পিপলস লিজিংয়ে আমানতের অর্থ লুটে জড়িতরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

এ ছাড়া অভিযুক্তদের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং তাদের গ্রেপ্তার একান্ত প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
আতিকুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন। পিপলস লিজিংয়ের ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আমানতের অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করুন। 

বর্তমান সরকার যেভাবে ফারমার্স ব্যাংকের অবসায়ন না করে পদ্মা ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করেছে, ঠিক সেভাবেই পিপলস লিজিং পুনর্গঠন করে দ্রুত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র ছয় হাজার আমানতকারীদের পক্ষে গড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা ঘোষসহ অন্য আমানতকারীরা উপস্থিত ছিলেন।