৫০০ কোটি টাকার লিচু

পাকা লিচুর রঙে রঙিন পাবনার ঈশ্বরদী। যেদিকে চোখ যায়, লিচু আর লিচু। করোনা মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। ঈশ্বরদীর হাজারো চাষি এবার ৫০০ কোটি টাকার বেশি লিচু বিক্রির আশা করছেন। যদিও ঝড়-বৃষ্টি আর কম দাম নিয়ে চিন্তিত তারা।

ঈশ্বরদী কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর করোনার কারণে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। এ বছর তা ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। মুকুল ও গুটির সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করেন চাষিরা। এখন পর্যন্ত শতকরা ৯০ ভাগ গাছেই প্রচুরসংখ্যক লিচু টিকে আছে।

গতকাল রবিবার উপজেলার বিভিন্ন লিচুবাগান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাগানে বাতাসে দোল খাচ্ছে থোকায় থোকায় পাকা লিচু। চাষিরা ব্যস্ত লিচু পাড়তে। ঈশ্বরদীতে আঁটি লিচু, চায়না-৩ ও ৪, বেদানা এবং বোম্বাই লিচুর আবাদ হয়। মাটির উর্বরতার কারণে সাহাপুর, ছলিমপুর, দাশুড়িয়া, মিরকামারী, ছিলিমপুর, জয়নগর, মানিকনগর, ভাড়ইমারী, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, শেখেরদাইড়সহ প্রায় সব এলাকার লিচু সুস্বাদু ও উন্নতমানের হয়ে থাকে। মৌসুমের শুরুতেই ব্যবসায়ীরা এসে আগাম বাগান কিনে পরিচর্যা করেন। পাকা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে ভিড় করছেন। ঈশ্বরদীর জয়নগর শিমুলতলা, বোর্ড অফিস মোড়, দাশুড়িয়া, আওতাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লিচুর হাট বসে। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে জমজমাট কেনাবেচা।

লিচু আবাদের কারণে এলাকায় আবদুল জলিল কিতাব মণ্ডল সবার কাছে পরিচিত ‘লিচু কিতাব’ নামে। লিচু চাষের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেয়েছেন তিনি। আবদুল জলিল দেশ রূপান্তরকে জানান, এ বছর কম বৃষ্টি ও আবাদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনটি বাগানে তার ২০০ গাছে ভালো ফলন হয়েছে। ১৫-২০ লাখ টাকার ব্যবসা হবে। গত বছর শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে লিচুর অনেক ক্ষতি হয়। এবার এসব দুর্বিপাক এড়িয়ে শেষটা ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ঢাকাসহ সারা দেশেই ঈশ্বরদীর লিচুর চাহিদা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ঈশ্বরদীর কোলেরকান্দি এলাকার চাষি আহমদুল্লাহ মিলন বলেন, ‘গতবার যে লিচু দুই থেকে আড়াই হাজারে বিক্রি করেছি, এবার তার দাম ১৪০০-১৬০০ টাকা। তবে ফলন বেশি হওয়ায় গতবারের লোকসান এবার পুষিয়ে যাবে।’ মানিকনগর গ্রামের চাষি আবদুল হক জানান, তিনটি বাগান থাকা সত্ত্বেও দুটি বাগান কিনেছেন। সব বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি লিচু বিক্রির আশা করছেন। সেটি হলে ভালো লাভ থাকবে বলে জানান তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার জানান, ঈশ্বরদীর প্রায় ১২ হাজার কৃষক এবার গতবারের চেয়ে প্রায় ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে লিচু চাষ করেছেন। প্রায় ৯০ ভাগ গাছেই ভালো ফলন হয়েছে। গত বছর শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ২০ ভাগ লিচুর ক্ষতি হয়েছিল। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি লিচু বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।