এক ব্যাটারের কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ব্যাট করতে হবে। বাংলাদেশ দলে এখন এই মন্ত্র। সেই মন্ত্রে সবাই সফল হতে না পারলেও এক-এক ইনিংসে আলাদা ব্যাটার দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। চলমান সিরিজের দুই ইনিংসে এই সফলতা এসেছে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ব্যাটিংয়ের ক্ষতে প্রলেপও দেওয়া গেছে। কাল লিটন দাশ জানালেন দলের পরিকল্পনায় এখন পর্যন্ত তারা সফল। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর টেস্ট বাঁচাতে কমপক্ষে ৩০০ রানে নজর দিয়েছিলেন দুজনে। তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া ও নিজের অনুশীলন ধরন বদলে অন্যরকম হয়ে ওঠার কথাও জানিয়েছেন লিটন। অবশ্য নিজের সেই পরিবর্তনগুলো কী তা প্রকাশ করলেন না। গোপন-ই রাখলেন।
ব্যাটিং অর্ডারে পরপর না হলেও কাছাকাছি সময়ে নামেন লিটন ও মুশফিক। তাই দুজনকে জুটিবদ্ধ হতে হয় প্রায়ই। সেই থেকে নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি করেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত নভেম্বরে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে চতুর্থ জুটিতে ২০৬ রানের পর, ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তৃতীয় উইকেটে ২০২, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত টেস্টে ১৬৫, আর এই টেস্টে রেকর্ড গড়া ২৭২ ছাড়াও আরও দল বাঁচানো জুটি আছে দুই ব্যাটারের। চলতি টেস্টের প্রথম দিনও একই অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে এ দুজনের চেষ্টায় পায়ের তলে মাটি পাওয়া। লিটন জানান লম্বা সময় ইনিংসটা টেনে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এসেছে এই সফলতা, ‘মুশি ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেকগুলো জুটি আছে। আমরা চিন্তা করছিলাম যে মিরপুরে ম্যাচে থাকতে হলে ৩০০ রান করতে হবে। চিন্তা ছিল যেন লম্বা সময় ব্যাট করা যায়। যত রান দেওয়া যায় বোর্ডে ততই ভালো। আমরা গিয়েই তো ১০০ করতে পারব না। চেষ্টা ছিল লাঞ্চ পর্যন্ত ব্যাট করা, এরপর সামনে এগোনো।’ নিজের সফলতা নিয়ে জানান, ‘দল আমার কাছে পারফরম চায়। চায় যে আমি বড় ইনিংস খেলতে পারব। এটা মাথায় থাকে যে দল আমার ওপর ভরসা করছে। এখন বুঝি যে টেস্ট ক্রিকেটের ধরন কেমন। কতক্ষণ ব্যাট করলে আমার রান বড় হবে। প্রিন্স (অ্যাশওয়েল) যা বুঝিয়েছিল তা আমার জন্য অনেক কাজের। ওর লম্বা ব্যাট করার পরামর্শ আমি এখনো ফলো করি।
এ বছর সব ফরম্যাট মিলিয়ে লিটন ১৭ ইনিংসে করেছেন ৯১৫ রান। টেস্টে রানের ফোয়ারা ছুটছে তার ব্যাটে। মাত্র ৮ ইনিংসে ৩টি করে হাফসেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরিতে ২০২১-২৩ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে করেছেন ৭৩০ রান। তার সামনে মাত্র দুজন, উসমান খাজা ৭৫১ ও জো রুট ১১৭৫ রান। অনুশীলন ধরন বদলে এই সাফল্য পেয়েছেন বলে জানালেন লিটন। তবে সেই ধরনটা কী তা নিজের ভেতরই রাখলেন, ‘অনুশীলনের মেথডটা পরিবর্তন করেছি। কী কী পরিবর্তন করেছি তা বলতে পারব না। সেটা আমার মধ্যেই থাক। বলে বোঝাতে পারব না আর কি।’ তবে ক্যারিয়ারের শুরুর সঙ্গে একটা পরিবর্তনের কথা জানালেন লিটন, তা হলো পরিসংখ্যান দেখা ছেড়ে দেওয়া, ‘যখন স্ট্যাট দেখতাম তখন দেখতাম যে খুব ব্যাকফুটে। তখন একটা চ্যালেঞ্জ ছিল কীভাবে সামনে আগানো যায়। এখন আর দেখি না। এখন শুধু চিন্তা করি কীভাবে সামনে এগোবো রান করে। এই ইনিংসটা অবশ্যই আমার জন্য ভালো ইনিংস কারণ এটাতে দলকে অনেক সাহায্য করতে পেরেছি।’
লিটনের এই উন্নতির পেছনে কোনো বাড়তি রহস্য নেই। নেই কারও ধাক্কা বা কাউকে দেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। ক্যারিয়ারের শুরুর ব্যর্থতা ভাবিয়ে তুলেছিল লিটনকে। সেই ভাবনা থেকেই নিজেকে বদলেছেন। ব্যর্থতার চোরাগলি থেকেই সফলতার পথ খুঁজে পেয়েছেন। এখন এই ধারা রেখে আরও সামনে যেতে চান। সঙ্গে দলকেও সাফল্য এনে দিতে চান লম্বা ব্যাট করার মন্ত্রে।