বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সামসুদ্দিন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্রসহ, বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শামসুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চ অন ফাদার অব দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ সংকলন ও প্রকাশে সামসুদ্দিন আহমেদের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অন্যদিকে, সামসুদ্দিনের মৃত্যুতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
আইজিপি এক শোক বাণীতে বলেন, মরহুম এ কে এম সামসুদ্দিন সুদক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইজিপি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ কে এম সামসুদ্দিন বিসিএস (পুলিশ) ১৯৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান হিসেবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৪৪ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
মরহুমের নামাজে জানাজা বাদ জুমা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ, পুলিশ সদস্যগণ এবং মরহুমের আত্মীয়-স্বজন জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা শেষে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রিটায়ার্ড পুলিশ অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
তাকে রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।