আগামী দিনে আইটি ইন্ডাস্ট্রি দেশের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়কারী সংস্থা হবে- এমন উদ্দেশ্যে দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরে স্থাপিত হচ্ছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। এই সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে উঠবে। অর্থনীতিতে অবদান রাখবে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষিত যুবসমাজ।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।
৭২ কোটি ৬২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যায়ে এই আইটি সেন্টারটি আগামী ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। ইতিমধ্যেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে একনেক কর্তৃক প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে।
ন্যুনতম এসএসসি/সমমান পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা, স্টার্ট-আপদের সহায়তা প্রদান ও আইটি/ আইটিইএস সেক্টরে যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করা এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যে।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের ভিতরে তিন একর জায়গা জুড়ে ভুমি উন্নয়ন করে ৬ তলা বিশিষ্ট ৪৮ হাজার বর্গফুটের শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন ভবন নির্মাণ হবে। প্রথম তলায় থাকবে এ্যাডমিনিস্ট্রেশন, রিসেপশন, উপাসনা কক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সিকিউরিটি এবং সার্ভিলেন্স সেন্টার, প্লাগ এন্ড প্লে ফ্যাসিলিটিজ এবং ফুড কর্নার। দ্বিতীয় তলায় থাকবে স্টার্টআপ স্পেস ও লার্নিং সেন্টার। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় থাকবে ট্রেনিং, এইচআরডি সেন্টার এবং মিটিং কক্ষ। ৫ম তলায় থাকবে আইটি, আইটিএস ইন্ডাষ্ট্রি, বিজনেস অফিস ও ইনকিউবেশন ফ্লোর। আর ৬ষ্ঠ তলায় থাকবে সোশ্যাল আমেনিটি ফ্লোর এবং জিম। এই প্রকল্পে যেমন তরুনদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তেমনিভাবে হবে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী কাজ। ফলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
জানতে চাওয়া হলে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এখানে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপিত হবে এটি আমাদের জন্য একটি সুখবর। আমাদের সন্তানদেরকে মানবসম্পদে পরিনত করতে হলে তাদেরকে আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে উপযুক্ত সময়ে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই সুযোগ আমাদের দারপ্রান্তে চলে এসেছে।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, এটি স্থাপনের ফলে এখানকার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। এটি জাতীয় প্রকল্প। সারাদেশে ১১টি মেগাপ্রকল্পের মধ্যে দিনাজপুর একটি। এখানে দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা অল্প খরচে আইটি প্রশিক্ষণ পাবে। নিজেদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবে।
জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের আশাবাদ ২০২৫ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর আয় হবে। গার্মেন্টস খাত যেমন রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রথম, আইটি খাতটিকেও আমরা এক নম্বরে নিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, এখানে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যায়ে এই সেন্টার স্থাপন হবে। এই পার্ক হলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবনমান উন্নত হবে, যুব সমাজ বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে। এই কলেজের ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তিত হবে। এই কলেজ থেকেই সারা বিশ্ব এখানে চলে আসবে, তারা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও মিডিয়া বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে তত দ্রুত শিক্ষার্থীরা আত্মকর্মসংস্থানে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়েও ডিজিটাল মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষা কার্যক্রম হয়েছে, ব্যাংকিং হয়েছে, বেতন-ভাতা পরিশোধ হয়েছে। আমাদের তরুন প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদেরকে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলতে চাই। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে এখানে অর্থনৈতিক উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী কাজ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে, একই সাথে ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী হবে।