আদালতের রায়ে সমকামী দম্পতি আদিলা ও ফাতিমার পুনর্মিলন

আদালতের আদেশে পরিবারের হাতে অপহৃত ভারতের কেরালার সমকামী দম্পতি আদিলা নাসরিন এবং ফাতিমা নুরা অবশেষে ফের একত্রিত হতে পেরেছেন।

গত সপ্তাহে তাদের একজনকে তার নিজের পরিবার অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর তাকে রূপান্তর থেরাপি নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ওই নারীর। এই থেরাপির মাধ্যমে সমকামীদের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবে এই থেরাপি বিজ্ঞান সম্মত নয়। মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই থেরাপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

আদালত রায় দিয়েছে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় একসঙ্গে থাকতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই পরিবারের। আদিলা আবেদন করেছিলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে তাদের একসঙ্গে থাকার অধিকার রয়েছে এবং আদালত ও পুলিশের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আদিলা থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাকে এই বলে ফিরিয়ে দেয় যে, এটি তাদের পারিবারিক সমস্যা।

এই সমকামী দম্পতি গত ১৯ মে একসঙ্গে থাকার জন্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন। বাড়ি ছেড়ে তারা ভানাজা কালেক্টিভ নামে কোঝিকোড়ের একটি এনজিওতে আশ্রয়ও নেন। এনজিওটি এলজিবিটিআইকিউ+ এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য কাজ করে।

কেরালার আর্নাকুলামের বাসিন্দা আদিলা সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানানা যে, তার সঙ্গীকে তার বাবা-মা জোর করে নিয়ে গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার সঙ্গীর পরিবার তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কিছুই করেনি।

পরে আজ ৩১মে কেরালা হাইকোর্ট রায় দেয় যে, তাদের একসঙ্গে থাকতে বাধা দেওয়া যাবে না।

সৌদি আরবের একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় এই দুই নারীর দেখা হয়। দ্বাদশ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তারা বুঝতে পারে যে, তারা উভয়েই সমকামী এবং তারা একে অপরের প্রেমে পড়েছে।

তাদের বাবা-মা তাদের সম্পর্কের কথা জানতে পারলে তারা বলে যে, তারা আর এই সম্পর্ক রাখবে না। তবে ভারতে ফিরে এসে কলেজে যোগদানের পরেও তারা তাদের সম্পর্ক চালিয়ে যায়।

গত ১৯ মে তাদের পরিবার বিষয়টি টের পায় এবং তাদেরকে এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে বলে। সেদিনই তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান এবং ভানাজা কালেক্টিভ নামের একটি এনজিওতে আশ্রয় নেন। কিন্তু তাদের পরিবার তাদেরকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়।