সাংবাদিক কাজলের ৩ মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ

আলোকচিত্র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিন মামলার বিচার কার্যক্রমে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে তার তিনটি আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে কাজলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।

আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি জানান, আদালত তিন মামলাতেই দুই মাসের জন্য বিচারকাজ স্থগিত করে আদেশ দিয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির জন্য তারিখ রাখা হয়েছে।

প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গত বছরের ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে কাজলকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িতদের’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গত ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই মামলা করেন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য।

একই ঘটনায় পরে আরও দুটি মামলা হয় ঢাকার হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায়। সব মামলায়ই আসামির তালিকায় কাজলের নাম ছিল।

একসময় দৈনিক সমকাল ও বণিক বার্তায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা কাজল ‘পক্ষকাল’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করছিলেন। মামলা হওয়ার পরদিন ১০ মার্চ বকশীবাজারের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

পরদিন কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী চকবাজার থানায় একটি জিডি করেন। ১৮ মার্চ কাজলের সন্ধান চেয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন তার ছেলে পলক।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখির কারণে অজ্ঞাতনামা কেউ তাকে ‘অপহরণ’ করেছে।

যশোর থেকে ঢাকায় আনার পর গত ২৩ জুন কাজলকে শেরেবাংলা নগর থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকের মুখোমুখি করা হয়। হাকিম আদালত সেদিন কাজলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে। এরপর গত ২৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতও কাজলের জামিন আবেদন নাকচ করলে তিনি ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত ২৪ নভেম্বর এবং এরপর ১২ ডিসেম্বর অন্য দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান কাজল। সেই জামিনের কাগজ বিচারক আদালত হয়ে কারাগারে পৌঁছালে গতকাল তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।