ইউক্রেনের ২ লাখ শিশুকে নিয়ে গেছে রাশিয়া, অভিযোগ জেলেনস্কির

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আজ ৯৯তম দিনে গড়িয়েছে। এদিন রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ শিশু অপহরণের অভিযোগ তুললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ’ফেব্রুয়ারিতে হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ২ লাখ শিশুকে জোর করে রাশিয়ায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সেনা অভিযানের ঘোষণা করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার আগে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে (যাদের একত্রে দনবাস বলা হয়) স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি।

প্রথম দিকে রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় রুশ বাহিনী। বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য দনবাস অঞ্চলকে স্বাধীন করা।

গত কয়েক সপ্তাহে জোরদার রুশ হামলার জেরে দনবাস এলাকায় কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইউক্রেন সেনারা। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি আমেরিকার কাছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছিলেন। কিন্তু জো বাইডেন সরকার জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানো যায় এমন কোনও ক্ষেপণাস্ত্র তারা ইউক্রেনকে দেবে না।

তবে বুধবার কিছুটা অবস্থান বদলে বাইডেন বলেন, ’ইউক্রেনের আবেদন মেনে আমরা তাদের সীমিত সংখ্যায় মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’। এর পরেই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ’আমেরিকা এমন পদক্ষেপ নিলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হব ‘।

রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভও ইউক্রেনকে ভারী অস্ত্র সরবরাহ করায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে মাঝারি পাল্লার রকেট লঞ্চার হিমারস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভেতরেও হামলা চালাতে পারবে ইউক্রেনীয় সেনারা।