গ্রেপ্তার মার্জিয়ার পাল্টাপাল্টি শাস্তি ও মুক্তি দাবি

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে পোশাকের জন্য তরুণী হেনস্তার ঘটনায় গ্রেপ্তার মার্জিয়া আক্তার ওরফে শিলার শাস্তি এবং মুক্তির দাবিতে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন হয়েছে। মার্জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নারী অধিকারকর্মীরা, অন্যদিকে তার মুক্তি দাবি করে স্থানীয় জনগণের ব্যানারে কিছু মানুষ মানববন্ধন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে নারী অধিকারকর্মীরা এবং প্রায় একই সময়ে নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সর্বস্তরের জনগণ’র ব্যানারে ওই দুই কর্মসূচি পালিত হয়।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে নারী নিরাপত্তা জোট ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ নেটওয়ার্কসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নারী স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে, এটা যেমন তার অধিকার, তেমনি সে কেমন ধরনের পোশাক পরবে সেটাও তার ব্যক্তিগত অধিকার। এতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। স্টেশনে তরুণীকে নির্যাতন করে পুরো নারী জাতীকে অপমান করা হয়েছে। প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। নরসিংদী রেলস্টেশনের তরুণীর যারা শ্লীলতাহানি করেছে তাদের সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। এই দাবিতে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক আবু নঈম মারুফ খান ও পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিমের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন আমরা পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের নির্বাহী পরিচালক জিনাত আরা হক, রিইবর পরিচালক রুহি নাজ, জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের চেয়ারম্যান মমতাজ আরা বেগম, এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম, নেটজ বাংলাদেশ প্রোগ্রামের ম্যানেজার আফসানা বিনতে আমিন প্রমুখ।

অন্যদিকে তরুণী হেনস্তার ঘটনায় গ্রেপ্তার মার্জিয়াকে নিরপরাধ দাবি করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ‘নরসিংদীর সর্বস্তরের জনগণ’র ব্যানারে মানববন্ধন করেন আইনজীবী শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। এ সময় তারা বলেন, মার্জিয়াকে কৌশলে ফাঁসানো হয়েছে। মার্জিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি তরুণীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্য এক নারী তরুণীকে নির্যাতন করেছে। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বের হয়ে জজকোর্ট গেটে গিয়ে শেষ হয়।