রাজধানীতে গভীর রাতে প্রেমিকার বাসায় গিয়ে প্রেমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

রাজধানীর কদমতলীর মাতুয়াইলে একটি বাসা থেকে আশিকুল হক চৌধুরী (৩২) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডের একটি বাসা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া যে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেই বাসার ভাড়াটিয়া সাফিয়া বেগমকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আশিকুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মো. ফজলুল হক চৌধুরীর ছেলে। রাজধানীর তেজতুরীপাড়া এলাকার একটি মেসে থাকতেন। দ্য এশিয়ান এজ নামে একটি পত্রিকার ছাপাখানার ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) হিসেবে চাকরি করতেন।

কদমতলী থানার এস আই মাহাবুবুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ৩/৪ মাস আগে সাফিয়া বেগম নামে এক নারীর সাথে আশিকুলের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আশিকুল গতকাল রাত আড়াইটার দিকে সাফিয়ার সাথে দেখা করতে তাঁর মাতুয়াইলের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে রাতের কোনো এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন আশিকুল। পরে ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান। সকালের দিকে খবর পেয়ে সেখান থেকে আশিকুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, সাফিয়া নিজেই টহল পুলিশের কাছে আশিকুলের মৃত্যুর খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে আশিকুলের মুখে ফেনা দেখতে পাওয়া যায়। কোনো প্রকার যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন অথবা নেশা জাতীয় কোনো কিছু খেয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সাফিয়া বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

আশিকুলের ফুপাতো ভাই সাইফুল আলম লেলিন দেশ রূপান্তরকে জানান, আশিকুলের মৃত্যু নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমাদের ধারণা স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। মরদেহের মুখে ফেনা ও লালাজাতীয় জিনিস দেখে মনে হয়েছে- কোনো কিছু খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কদমতলী থানায় হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

কদমতলী থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আশিকুলের মরদেহ যে বাসায় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাসায় অবস্থানরত সাফিয়া বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নারীর দাবি, আশিকুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাতে তার বাসায় যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান।

তিনি আরও বলেন, ছেলেটি স্বেচ্ছায় গিয়েছিল নাকি ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অসুস্থ হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে নাকি কোনো বিষাক্ত কিছু খাইয়ে মারা হয়েছে, মেয়েটির বক্তব্য সঠিক কিনা- সবই তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে।