চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোর প্রবেশমুখের দুপাশের এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের ভিড়। যাদের অনেকে এসেছিলেন আগুন-বিস্ফোরণের পর ডিপোতে আটকা পড়া স্বজনের খোঁজে। ডিপোর ভেতর থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বের হলেই তাই তারা ছুটে যান সেদিকে। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে দেখার চেষ্টা করেন ভেতরে কে আছে।
সেই ক্লান্ত মানুষগুলোর চোখের ভাষা পড়ে নেয়া যায় খুব সহজে। সবার চেহেরায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তাদের ভিড়ে ছিলেন কামরুল হাসান নিয়াজ ও নুরুল আবছার বাবুল। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই শহরের বহদ্দারহাটের বাসা থেকে সীতাকুণ্ডের ঘটনাস্থলে আসেন বিএম ডিপোতে কর্মরত তাদের মামা হাফিজুর রহমানকে খুঁজতে।
শনিবার রাত সাড়ে ১২ টায় নিয়াজ ও বাবুল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কোনোভাবে খুঁজে পাচ্ছিলেন না মামা হাফিজকে। হাফিজের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় ও অন্যদের কারো কাছ থেকে খোঁজ না পাওয়ায় তাদের অসহায়ত্ব বাড়ছিল। তবু তারা মামার খোঁজে চষে বেড়ান আশপাশের এলাকায়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হতাশ হয়ে যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আসছে কিনা দেখতে শহরে ফেরার চেষ্টা করছিলেন তখনই খোঁজ মেলে হাফিজের।
বাকিটা শোনা যাক নিয়াজ ও বাবুলের মুখ থেকে। দুজন বলেন, 'মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় কোনোভাবে মামার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। এদিকে পরিবারের সবার মধ্যে আতঙ্ক আর উদ্বেগ কাজ করছিল। আশপাশের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার অবস্থান নিশ্চিত করতে না পেরে আমরাও হতাশ হয়ে পড়ি।
বাবুল ও নিয়াজ আরো বলেন, 'হঠাৎ রাত ৩টার দিকে একটা নম্বর থেকে আমার নানুর কাছে ফোন দেন মামা। পরে সেই নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে মামার সাক্ষাৎ পাই। আড়াই ঘণ্টা যে আমাদের ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে নিজেরাই জানি শুধু।'
হাফিজ বলেন, 'বিম্ফোরণের একেবারেই কাছাকাছি ছিলাম। পরে একটা ফোন আসায় কথা বলার জন্য দূরে সরে যাই। তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। নিরাপদে ফিরলেও মোবাইলের চার্জ ছিল না। আবার বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জও দেওয়া যাচ্ছিল না। আর পরিচিত যারা ছিলেন বিস্ফোরণে তাদের অনেকের মোবাইল ফোনও নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা প্রায় সব কর্মী বিহ্বল হয়ে পড়ি। ফলে এ সময় কী করব না করব বুঝে উঠতে পারিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আরেকজনের মোবাইলের মাধ্যমে ঘরে ফোন করি। এরপর ভাগ্নেদের সহায়তায় শহরে ফিরেছি'।