চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আগুন ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিক মুজিবুর রহমানসহ জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তারা জানান, সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিকদের একজন মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা।
তাদের অভিযোগ, রাসায়নিক দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সরকারের তল্পিবাহক হয়ে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছেন বলেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারছেন।
‘রাসায়নিক আমদানি ও সংরক্ষণের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি, নিরাপত্তার নীতি লঙ্ঘন ও উপেক্ষার দায়ে বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিক মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার, বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট নানান কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অবহেলা নির্ণয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, হতাহত ও তাঁদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়নের দাবিতে’ এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ থেকে সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা হতভম্ব ও আতঙ্কিত। এই অগ্নিকাণ্ডই একমাত্র ঘটনা নয়। এ ধরনের ঘটনা দেশে একের পর এক ঘটেই চলেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নীতিমালা ভঙ্গ করে রাসায়নিক দ্রব্য অবৈধভাবে এক প্রকার অসাধু ব্যবসায়ী আমদানি ও সংরক্ষণ করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেন। এসব অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পান অথবা তাদেরই লোক।
বিন ইয়ামিন আরও বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) কীভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছে এবং মানবতার ফেরিওয়ালা সেজে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে ও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, এগুলো সবার জানা প্রয়োজন। তাদের মুখোশ মানুষের সামনে উন্মোচন করে দিতে হবে। ঘটনার পর বিএম কনটেইনার ডিপোর মালিকপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। বলেছে, সেখানে রাসায়নিক দ্রব্য নেই। প্রাণহানির জন্য মুজিবুর রহমানসহ দায়িত্বরতরা দায়ী।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের ‘দোসর’দের অবৈধভাবে রাসায়নিকের ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনিও সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
আরিফুল বলেন, আজ দেশের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ও তাঁদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রাসায়নিক দ্রব্যের নিরাপদ ব্যবহারে আইন ও বিধিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ‘অপরাধীদের প্রতি ক্ষোভ ভুলিয়ে দেওয়ার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। ক্ষমতাসীনদের চালাকি আমরা ধরে ফেলেছি। এমন কোনো সেক্টর নেই, যেটাকে ভালো রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীনেরা শুধু উন্নয়ন শব্দটির ওপর ভিত্তি করে রাজনীতি করছে। আদতে তারা করেছে বস্তাপচা উন্নয়ন।’
সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ক্ষমতাসীনদের জন্য আইন অমান্য করাটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে আইনের শাসন নেই। ভবিষ্যতে সীতাকুণ্ডের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য দেশের পরমাণু প্রকল্পেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি আন্দোলন) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশ একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের দেশ। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে ক্ষমতাসীনদের যেহেতু জনগণের কাছে যেতে হয় না, তাই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটাতে হবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাহিত্য সম্পাদক জাহিদ আহসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, তিতুমীর কলেজ শাখার নেতা আবু রায়হান খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।