আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এশিয়ার পরাশক্তিধর রাষ্ট্র চীন। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত বছরেই মহাকাশে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে চীন। ওই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে তারহীন পাওয়ার ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে একটি নিবন্ধ চাইনিজ স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড চেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলেন, স্যাটেলাইটটি সৌরবিদ্যুৎকে মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রবাহিত করা হবে। এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে পৃথিবীতে থাকা স্টেশন ও চলমান স্যাটেলাইটগুলো রয়েছে। প্রসঙ্গত, ওই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা দিয়ে হাতেগোনা কয়েকটি বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যাবে।
অল্প বিদ্যুৎ উৎপন্ন হলেও ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্বনের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সময়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। চীনের অ্যাকাডেমি অব স্পেস টেকনোলজির অধীনে থাকা ন্যাশনাল কী ল্যাবরেটরি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অন স্পেস মাইক্রোওয়েভের অধ্যাপক ডং সিওয়েই ও তার সহকর্মীরা জানান, মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাটি প্রথম করা হয় ২০১৪ সালে। তখন যে ডেডলাইন ঠিক করা হয়েছিল, তা দুই বছর কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে প্রাযুক্তিক উন্নয়নের কারণে। ডংয়ের মতে, মহাশূন্যে প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। মহাশূন্য থেকে তারহীন বিদ্যুৎ আনয়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা এখনো রয়েছে, কিন্তু তা সমাধানযোগ্য বলে মনে করেন তিনি। গত মার্চে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, তারা ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাশূন্যে একটি পাইলট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১৬ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি বাজেট তৈরি করেছে। এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্যকে সহায়তা করবে ইউরোপের অনেক সংস্থা ও এয়ারবাস। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও তাদের এক্স-৩৭বি স্পেস প্লেনের মাধ্যমে একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল। ওই প্রকল্পের অধীনেই ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৫ সালের মধ্যে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসাও গত দুই দশক ধরে মহাশূন্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে আসছে। কিন্তু প্রাযুক্তিক দুর্বলতার কারণে সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে।