টাঙ্গাইলের বাসাইলে তৃষা মণি (৯)-কে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে পৌর এলাকার শহীদ ক্যাডেট একাডেমির উদ্যোগে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচিতে আল হেরা ক্যাডেট মাদ্রাসা, ব্রাইট স্টার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, লোটাস ক্যাডেট স্কুলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্ম ঘোষণা করেন।
এ সময় বাসাইল ডিগ্রি কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বাজার এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজে গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শহীদ ক্যাডেট একাডেমির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর বিন জাফর, পরিচালক আবুল কাশেম মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা সরকার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ফারুক, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মশিউর রহমান খান বিদ্যুৎ, স্থানীয় কাউন্সিলর বাবুল আহমেদ, তৃষা মণির মা সম্পা বেগম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তৃষা মণির হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হয়েছে। এ জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন আসামিদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। যাতে আর কোনো নরপশু এমন কাজ করতে না পারে। নরপশুরা যেন এই বিচার দেখে থমকে যায়।
গত ২৬ মে বিকেলে তৃষার মা সম্পা বেগম ছেলে শুভকে স্কুল থেকে আনতে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বাড়িতে ফিরে দেখেন তৃষা সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে তাকে আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাভারে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনদিন পর ২৮ মে বিকেলে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তৃষার মৃত্যু হয়।
৪ জুন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া যায়। ওইদিনই তৃষার বাবা আবু ভূঁইয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি স্ব-উদ্যোগে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের স্বপন মণ্ডলের ছেলে গোবিন্দ মণ্ডল (১৯), আনন্দ মণ্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)-কে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আসামিরা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।