দুই শ্রমিক নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ

ভালুকায় কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজ কোম্পানিতে বেতন-ভাতা, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারসহ ১৪ দফা দাবিতে আন্দোলনরত দুই শ্রমিক নেতাকে নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকেলে কারখানা গেটে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে বাস থেকে নামিয়ে আবুল কালাম আজাদ ও রুহুল আমিন নামে দুই সিবিএ নেতাকে মারধর করে কোম্পানির ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কোম্পানির শ্রমিকরা জানান, তারা ১০৮ জন উৎপাদন সেকশনে কাজ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতন বৃদ্ধি, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ; পরিবহন সুবিধা এবং ওয়েল ফেয়ার সুবিধাসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাদের কোনো দাবিই আমলে নেওয়া হয়নি। গত ৪ জুন থেকে তারা মিলগেইটে মানববন্ধন করে আসছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে মানববন্ধন শেষে সিবিএ নেতা আবুল কালাম ও রুহুল আমীন বাসে গাজীপুরে বাসায় যাচ্ছিলেন। এসএমসি কোম্পানির সামনে একটি মোটরসাইকেল বাস থামিয়ে তাদের বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় রুহুল আমীন কৌশলে পালিয়ে গেলেও আবুল কালাম আজাদকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। রাতে হবিরবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আহত অবস্থায় ফেলে যায়। পালিয়ে যাওয়া রুহুল আমিন ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ আবুল কালামকে উদ্ধার করে। 

কারখানার ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান খোকন বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমাদের দুই নেতা আবুল কালাম আজাদ ও রুহুল আমিনকে বাড়ি যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে নামিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে আবুল কালাম আজাদকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। আমাদের ১৪ দফার দাবির সঙ্গে এখন সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিও যোগ হলো। আমরা এখন সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

এ বিষয়ে কোম্পানির মানবসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক আনোয়ারুল আমীনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে ওই কর্মকর্তাকে বারবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। 

ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, শ্রমিক নির্যাতন ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে। ময়মনসিংহ শিল্পপুলিশ-৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী সায়েদুর রহমান জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য কোম্পানি কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে শিল্পপুলিশের আলোচনা চলছে।