মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য

গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য ঠিক করে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় করোনা মহামারি ও পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধজনিত অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি মূল্যস্ফীতির এই লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেন।

মুস্তফা কামাল বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২১ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২২ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ৬৫ শতাংশ, ইউরিয়া সারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৪ শতাংশ, সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির হার ২৯ শতাংশ, গমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৫ শতাংশ এবং চিনির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ শতাংশ। সেকারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৯টি পণ্যের (জ্বালানি তেল, এলএনজি, গম, রাসায়নিক সার, পাম অয়েল, সয়াবিন তেল, কয়লা, ভুট্টা ও চাল) একই পরিমাণ আমদানি করতে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে ৮.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে বলে তথ্য দেন তিনি।

কামাল বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন করতে হচ্ছে এবং চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ৭.৯ শতাংশ।

বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করা যায়নি।