করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, বিগত দুটি বাজেটে কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য উভয় বাজেটে আমরা ১০ হাজার কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ রেখেছিলাম। দেশে করোনা সংক্রমণ বর্তমানে অনেকটা স্থিমিত হয়ে আসার পরও এর সম্ভাব্য পুনরাবির্ভাবের আশঙ্কা রয়ে গেছে। কারণ বিশ্বের অনেক দেশেই এখনও এ মহামারীর প্রকোপ বিরাজমান। সুতরাং কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও তজ্জনিত কারণে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সংঘটিত ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে আগামী অর্থবছরেও স্বাস্থ্যখাতের জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, কোভিড-১৯ এর মতো জটিল মহামারী মোকাবিলা, দ্রুত সাড়া দেওয়া ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক, কারিগরি দিক ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসসহ সব ধরনের টিকা উৎপাদনের জন্য দেশে একটি মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুসারে শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি গোপালগঞ্জে একটি টিকা উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে যাতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এ প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা পর্যায়ক্রমে একটি আন্তর্জাতিক মানের টিকা গবেষণা ও উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করবো যাতে টিকার জন্য আমাদের বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়।