এই দিনে

১৯০১ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন লেখক ও শিক্ষাবিদ প্রমথনাথ বিশী। তার বাবার নাম নলিনীনাথ বিশী ও মা সরোজবাসিনী দেবী। সেকালে শান্তিনিকেতন ছিল অফুরন্ত প্রাণপ্রবাহের প্রতীক। ১৯১০ সালে ৯ বছর বয়সে তার ছোট ভাইকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে আসেন এবং রবীন্দ্রনাথের ছায়ায় ব্রহ্মবিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। সেখানে তিনি একনাগাড়ে ১৭ বছর অধ্যয়ন করেন। মেধা, প্রখর বুদ্ধি, অধ্যয়ননিষ্ঠা ও কবি-প্রতিভা ইত্যাদি গুণাবলির জন্য তিনি রবীন্দ্রনাথের স্নেহ লাভ করেন। প্রাইভেটে এমএ পরীক্ষা দিয়ে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। গদ্য-পদ্যে তিনি সমান দক্ষ। প্রকৃতি ও নারীপ্রেম তার কবিতায় মনোজ্ঞভাবে উপস্থিত। তার মতো এত সনেট বাংলায় আর কেউ লেখেননি। হাস্যরসাত্মক নাটক লেখায়ও তিনি কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ইতিহাসাশ্রিত উপন্যাস এবং সামাজিক উপন্যাস দুই রকম রচনাই তিনি লিখেছেন। কবিতা, নাটক, উপন্যাস, রম্যরচনা ইত্যাদি লিখলেও তার মূল খ্যাতি রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবে। তিনি মধুসূদন এবং বঙ্কিম সাহিত্যেরও দক্ষ আলোচক। নানা বিষয়ে তার বইয়ের সংখ্যা একশোর কাছাকাছি। কখনো স্বনামে, কখনো বা ছদ্মনামে প্র. না. বি., শ্রীকমলা-কান্ত শর্মা, মাধব্য, স্কট্ টমসন, হাতুড়ি, অমিত রায়, পরিহাস কেশবম প্রভৃতি ছদ্মনামে লিখেছেন। রাজনীতির অঙ্গনেও বিচরণ ঘটেছে তার। ১৯৬২-৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য ও ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ‘কেরী সাহেবের মুন্সী’ বইটির জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি সম্মানজনক আনন্দ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। ১৯৮৫ সালের ১০ মে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।