সংস্কৃতি খাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

গত বছরের চেয়ে এবার সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ ৫৮ কোটি টাকা বাড়ানো হলেও বাজেটের আকার এবং মোট জিডিপির হিসাবে এই খাতের বরাদ্দ কমেছে বলে মনে করছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। দেশব্যাপী সংস্কৃতিচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথেষ্ট নয় বলেও জানায় সংগঠনটির নেতারা।

শনিবার বিকেলে ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সংস্কৃতিকর্মী সমাবেশ’ আয়োজন করে উদীচী। সমাবেশে বক্তারা সংস্কৃতি খাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সরকার উন্নয়ন বলতে অবকাঠামো উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই বোঝে। জাতির মনোজগতের উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে তারা হিসাবেই নিচ্ছে না। ফলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী ধর্মীয় উগ্রতা, কূপমণ্ডূকতা এবং চরম অসহিষ্ণুতায় নিমজ্জিত হচ্ছে। বিস্তৃতি ঘটছে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের। বিস্তৃতি ঘটছে ভোগবাদী চিন্তার। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য বিস্মৃত হচ্ছে গোটা জাতি। দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐক্য নস্যাৎ করে শোষণ ও লুণ্ঠনের পথই অবারিত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী কালেও সংস্কৃতি নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো কর্মসূচি নেই। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার যে সাংস্কৃতিক জাগরণ এই দেশে সংঘটিত হওয়ার কথা ছিল তাও হয়নি। কারণ রাষ্ট্র বা সরকার সংস্কৃতি খাতকে গুরুত্বই দেয়নি কখনো। প্রতিবছর বাজেটে সংস্কৃতি খাতকে সীমাহীন উপেক্ষার মুখে পড়তে হয়। বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ না বাড়ালে এ রাষ্ট্র তার জন্মচেতনা ৭১ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে বাধ্য।

সংসদে উত্থাপিত বাজেট সংশোধন করে অবিলম্বে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সমাবেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, চিন্তা ও মননগত উন্নয়ন না ঘটলে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে রাষ্ট্র অগ্রসর হবে না।

উদীচী সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উদীচীর সহসভাপতি প্রবীর সরদার, জামসেদ আনোয়ার তপন, ইকরামুল কবির খান, সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, ঢাকা মহানগরের সভাপতি নিবাস দে ও সহসাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান। সমাবেশ পরিচালনা করেন সহসাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম। গণসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাজেদা বেগম সাজু ও মায়েশা সুলতানা উর্বী।