বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহের দুটি পুকুর শুকিয়ে গেছে। এতে সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ পৌরবাসী। পানি সরবরাহ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপকূলের লবণ-অধ্যুষিত মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি নিয়ে এখানকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এই সংকট সমাধানে ২০০৮ সালে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের মাছমারা এলাকায় পুকুর খননসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও অবকাঠামো করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তাতেও চাহিদা না মেটায় ২০১৬ সালে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি পুকুর খনন করা হয়। মোট ৮৩ একর জায়গার ওপর অবস্থিত পুকুর দুটিতে বৃষ্টি ও নদীর পানি সংরক্ষণ করে তা বিশুদ্ধকরণ করে পৌরবাসীকে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে অনাবৃষ্টি ও নদীর পানির অপ্রতুলতায় পুকুর দুটি শুকিয়ে গেছে।
পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘পৌরসভায় প্রায় দুই লাখ মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ৬০ লাখ লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ৩০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। আর এখন পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিই একমাত্র ভরসা। না হলে উপায় থাকবে না।’
পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবদুর রহমান বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে পুকুর দুটি খননের কারণে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। বিগত সময়ে পুকুর খননে যারা অনিয়ম করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এটি দেখভালের দায়িত্ব থাকলেও তারা ফিরেও তাকান না।’
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প হস্তান্তরের পর থেকে আমাদের আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। তারপরও পানির সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’