জামিনের রুল খারিজ করে হাইকোর্ট

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি জঘন্য অপরাধ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি ঘষামাজার ঘটনার মামলায় কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা খাতুনের জামিন প্রশ্নে দেওয়া রুল খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ে আদালত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির ঘটনাকে গুরুতর ও জঘন্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. মশিউর রহমান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আমিন উদ্দিন মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামি ফাতেমার জামিন প্রশ্নে রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। হাইকোর্ট বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি গুরুতর ও জঘন্য ঘটনা। আসামিদের প্রতি দয়া দেখানো সমীচীন হবে না।’

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ এয়ার কমডোর (অব.) এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সার সংক্ষেপ পাঠানো হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদনে রাষ্ট্রপতির কাছে নথি পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা খাতুনের কাছে নথি আসার পর ২০২০ সালের ১ মার্চ এই নথি কার্যালয় থেকে কৌশলে বাইরে পাঠান ফাতেমা।  এরপর ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্ন ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ‘ক্রস’ চিহ্ন এবং এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেওয়া হয়। পরে ২০২০ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে নথি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হলে জালিয়াতির এ বিষয়টি ধরা পড়ে।