পুঁজিবাজারে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের আয়োজনে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে পুঁজিবাজারে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ‘Toward Greater Participation of Women Investors in the Bangladesh Capital Market’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে উদীয়মান, প্রতিশ্রুতিশীল নারী বিনিয়োগকারীদের অধিকতর সক্রিয় অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

যেখানে দেশের পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। পুঁজিবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে লাভ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এ সম্মেলনের একটি লক্ষ্য।

সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে পুঁজিবাজারে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারীরা এখনো এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। নারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা বোধ করেন যা শিক্ষার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। নারীদের পুঁজিবাজারে আগ্রহী করতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম আয়োজন করছে।

এ ছাড়া, বিনিয়োগকারী হিসেবে নারীদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে প্রজ্বলিত করার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে লাভ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা লক্ষ্যে কাজ করছে বিআইসিএম।’

সম্মেলনটির উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার পাশাপাশি এসডিজি (SDG)-এর ৫ নম্বর গোলে বেশ কিছু উপধারা রয়েছে। নারীদের পুঁজিবাজার বিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ৩টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে– বিএসইসি-এর একটি ট্রেনিংউইং, বিআইসিএম ও বিএএসএম।’

তিনি জানান, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে শহরে থেকে গ্রামাঞ্চলে সবার মাঝে ছাড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। শিগগিরই ময়মনসিংহে এ বিষয়ক বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে নারীদের ৫০ জনের একটি দল যদি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আবেদন করে তাহলে কমিশন আবেদনকারী দলের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে।

সম্মেলনটির সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. রুমানা ইসলাম বলেন, “পুঁজিবাজার ছেলেদের জায়গা এটা ভেবেই হয়তো নারীরা এই সেক্টরে কম আসেন। তবে নারীদের নিষ্ঠা ও প্রচেষ্টা এই চিত্র বদলাতে পারে। এবং বুঝে শুনে সবার আর্থিক বাজারে আসা উচিত।”

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের সহকারী অধ্যাপক কাশফীয়া শারমিন।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে। এতত্সত্ত্বেও প্রায়শই নারী বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন রকমের গুরুতর বাধার সম্মুখীন হতে হয়, যেমন: স্টার্ট-আপ মূলধন পেতে অসুবিধা বা যথাযথ আর্থিক সক্ষমতার অভাব। পরিসংখ্যান বলে যে, পুঁজিবাজারে নারী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের হার পুরুষদের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা একটি প্রগতিশীল, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য বেমানান! এবং যেসব বাধাসমূহ নারীদের পুঁজিবাজারে অধিকতর অংশগ্রহণে বাধা দেয় তা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন।

এই সম্মেলনে  পুঁজিবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান সমস্যা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। নারী বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। এরপর প্যানেল আলোচনায় মডার্ন সিকিউরিটিজ লি.এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর খুজেস্তা নূর- এ-নাহারীন বলেন, নারীরা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তারা এখন বিনিয়োগের জায়গা খোঁজেন। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকলেও জেনে শুনে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো যায়। দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের মানসিক প্রস্তুতি থাকলে এই মার্কেট থেকে লাভ অর্জন সম্ভব।

আলোচনায় তানিয়া শারমিন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও, সিএপিএম এডভাইজরি বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে স্পেসেফিক এইচ আর পলিসি নেই, যার কারণে নারীরা এখানে বৈষম্যের শিকার হয়।

তিনি কমিশন কে এইচ আর পলিসি নিয়ে কাজ করার অনুরোধ করেন।

প্যানেল আলোচনায় এনবিএল ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লি. সিইও কামরুন নাহার সময় উপযোগী এবং ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

সম্মেলনে নারী শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং গৃহিণীরা অংশগ্রহণ করেন।