পাইকগাছার হরিঢালী

বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় ৪০ হাজার মানুষ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় কপোতাক্ষ নদে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভেঙে নদে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় পানির চাপে যেকোনো সময় নদের পাড়ের অবশিষ্ট অংশ ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে সরু হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বাঁধের অস্তিত্ব নেই। কিছু কিছু স্থান দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, হরিঢালি ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি গ্রামের খেয়াঘাট এলাকার শ্মাশনঘাট থেকে খাস খাল পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় চার বছর ধরে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে গত দুই বছর এই ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। গত বছর পাউবো কিছু কাজ করলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

মাহমুদকাঠি গ্রামের সন্তোষ বিশ্বাস বলেন, ‘তিন-চার বছর আগেও নদ প্রায় ২৫ হাত দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এমন অবস্থায় এসেছে। অবশিষ্ট অংশ ভেঙে গেলে পুরো ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।’

একই গ্রামের জেলেপাড়ার আশুতোষ বিশ্বাস (৪০) বলেন, ‘সামনে বর্ষাকাল, জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো সময় নদের পাড় ভেঙে যেতে পারে। মাঝে মাঝে  চেয়ারম্যান, মেম্বর ও পাউবো থেকে লোক এসে দেখে যায়, কিন্তু কাজ হয় না। পাড় ভেঙে গেলে আমাদের জেলেপাড়ার প্রায় ৬০০ ঘর মানুষ পানিতে তলিয়ে যাবে।’

স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শংকর বিশ্বাস বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওই এলাকায় ভাঙনে প্রায় দেড় শ বিঘা জমি নদে চলে গেছে। পাউবো এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। বর্ষায় বাঁধের অবশিষ্ট অংশ ভেঙে গেলে ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। অধিকাংশ জেলে খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে বসবাস করছে। নদের ভাঙন অব্যাহত থাকলে তাদের বসবাসের আর জায়গা থাকবে না। তাই সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

পাউবো খুলনা-১ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই এলাকা আমরা দেখে এসেছি। এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁধ ভেঙে নদে চলে গেছে। এখন নদের পাড়ে জায়গাও নেই। এখন নতুন করে গ্রামের মধ্য দিয়ে বাঁধ দিতে হবে। সে ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠিয়েছি। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।’