১৮ বছরে পা রেখেছে বইপ্রেমী মানুষের প্রিয় জায়গা ‘বাতিঘর’। এ উপলক্ষে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল শুক্রবার অনেকেই বর্ষপূর্তির শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি জমে উঠেছিল গান-আড্ডা-আলাপ।
এদিন ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বাতিঘরের শোরুমে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন অনেকে। মুক্ত আলাপে অংশ নেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, জাহাঙ্গ ীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন, মির্জকাপুর কুমুদিনী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার রীনা কুশ, কথাশিল্পী আসিফ নজরুল, শীলা আহমেদ, অভিনেতা শহীদুজ্জ ামান সেলিম, অভিনেত্রী অপি করিম, কবি শামীম রেজা, প্রাবন্ধিক হামীম কামরুল হক, কথাশিল্পী সালমা মোসফা নুসরাত, প্রকাশনা সংস্থা নালন্দার স্বত্বাধিকারী রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল। কানাডায় পিএইচডি করছেন তানিশা চাকমা। তিনি ফরাসি, ফারসি ও বাংলা ভাষায় তিনটি গান গেয়ে শোনান। দুই বোন গার্গী ঘোষ ও মৈত্রেয়ী ঘোষ শোনান আধুনিক গান ও রবীন্দ্র সংগীত। আরো অনেকেই মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং গান গেয়ে শোনান।
বাতিঘরের সিইও ও চিফ এডিটর জাফর আহমদ রাশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে ছাপা বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে কেউ কেউ বলেন। কিন্তু বাতিঘরে কাজ করতে এসে আমার সেটা মনে হচ্ছে না। বরং ছাপা বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ দেখে আমি আশাবাদী হয়ে উঠছি। পাঠকের ভালোবাসায় বাতিঘর ১৮ বছরে পা রেখেছে। সামনে আরও পথ চলব বলেই বিশ্বাস করি।’
২০০৫ সালের ১৭ জুন চট্টগ্রাম শহরের চেরাগি পাহাড় মোড়ে ছোট্ট একটা ঘরে যাত্রা শুরু করে বাতিঘর। বর্তমানে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটে বড় পরিসরে এবং ঢাকার শাহবাগ ও বাংলাবাজারে ছোট পরিসরে বাতিঘরের শাখা আছে। রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘোড়ামারায় বড় পরিসরে বাতিঘর প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। দেশে-বিদেশে যেকোনো জায়গায় বই পাঠানোর জন্য যাত্রা শুরু করেছে অনলাইন বাতিঘরÑ নধধঃরমযধৎ.পড়স। ২০০৯ সালে প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাতিঘর। ইতিমধ্যে বাতিঘর প্রকাশ করেছে প্রায় ৩০০ বই।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুদিনের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বাতিঘর পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বাগত জানাচ্ছে। প্রতিদিনই বিকেলে থাকছে মুক্ত আলাপ ও গান। বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় বাতিঘরে সবার উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’