কাজ শেষ না করেই সড়ক চালু!

চট্টগ্রামের অলংকার-নিমতলা সড়ক। ২০১৭ সালে কাজ শুরু হওয়া ৫ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থের সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ না হলেও যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যান চলাচল শুরুর পরপরই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে সড়কটি। গত এক বছরে ঘটেছে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনা। তার পরও গাড়ি চলে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে। ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা সড়কটির মোড়ে মোড়ে এখন যেন মৃত্যু ভয়। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, যাচ্ছে প্রাণও। অথচ পথচারীর সুরক্ষায় সড়কটিতে নেই গতিরোধক, ফুটওভারব্রিজ ও চত্বর। সড়কবাতিও অপর্যাপ্ত, যে কটি আছে তার অনেকগুলো আবার জ্বলে না।  জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের’ আওতায় সড়কটি নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। আনুষ্ঠানিকভাবে চালু না হলেও গত বছর থেকে যানবাহন ও সাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে এ সড়ক। এরপর থেকে গত বুধবার পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন আটজন, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। যাদের অনেকে বরণ করেছেন পঙ্গুত্ব। সর্বশেষ গত বুধবার এ সড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ হারান বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের আনোয়ারুল ইসলাম ও জাহেদুল ইসলাম নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী।  এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি তৈরির পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। পোর্ট কানেকটিং সড়কের নয়াবাজার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, হালিশহর থেকে দেওয়ানহাটমুখী লেনের সব গাড়ি চলাচল করছে কোনো রকম বাধা ছাড়াই। অন্যদিকে সিটি গেট থেকে বড়পোলমুখী বড় গাড়িগুলো গতিরোধক না থাকায় দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে। একই সময় আশপাশের সংযোগ সড়কগুলো থেকে কর্মস্থলগামী মানুষ মূল রাস্তায় এসে পারাপার হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।  হালিশহর থেকে নিউমার্কেটমুখী ট্যাম্পোচালক লোকমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মতো ছোট গাড়িগুলো চালিয়ে এ রাস্তা পার হই ঝুঁকি নিয়ে। শুধু আমার ঝুঁকি না, আমার গাড়িতে যত যাত্রী থাকে তাদের জীবনেরও ঝুঁকি থাকছে। এত বড় একটা নয়াবাজার বিশ্বরোড মোড় কিন্তু কোনো চত্বর না থাকায় প্রায়ই বড় গাড়ির সঙ্গে আমাদের গাড়িগুলোর সংঘর্ষ হচ্ছে।’ ওয়াপদা এলাকার এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়কটি শুধু গাড়ি চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়নি। তাই প্রাণহানি ঘটছে।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য সড়কের মাঝখানে মিডিয়ান বসানো, ট্রাফিক সিগন্যাল লাগানো সবই করা হয়েছে। এর পরও দুর্ঘটনা ঘটলে সেটা ট্রাফিক পুলিশ দেখবে। আমরা আমাদের সব ইঞ্জিনিয়ারিংস মেজার্সসহ যা যা দেওয়ার সব দিয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) উপকমিশনার তারেক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়কটি এখনো সম্পূর্ণ না। তা ছাড়া বিশাল এ রাস্তায় বাইক ও ট্রাক পাল্লা দিয়ে দ্রুত গতিতে চালায়। তাই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা প্রায় সময়ই বাইক ধরছি, সচেতন করছি এবং মামলা করছি। বড় গাড়িগুলোর মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করছি, স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের সচেতন করছি। কিন্তু খুব একটা সমাধান হচ্ছে না। আমার অধীনের এলাকায় প্রায় ৫০ জন ট্রাফিক সদস্য নিয়মিত পালাবদল করে কাজ করছে, কিন্তু দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে তাদের জন্য।’  তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তাটি যেহেতু বড় তাই আমরা সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন মিটিংয়ে বহুবার ফুটওভারব্রিজ ও স্পিডব্রেকার দেওয়ার ব্যাপারে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।’