পদ্মা সেতুর জাঁকজমক উদ্যাপন না করে প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারিদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদ।
পরিষদের সভাপতি মিজান বাশারের সভাপতিত্বে ও শাহিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, পরিবেশবিদ ও দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সংগঠনের মহাসচিব কাজী মোস্তফা কামাল। বক্তব্য রাখেন লেখক ও পরিবেশ সাংবাদিক ইরানি বিশ্বাস, খুলনা পোলট্রি ফিড ফিশের এস এম সোহরাব, সভাপতি কিশোরগঞ্জ পোলট্রি ডিলার শরীফ উদ্দিন, পোলট্রি মার্কেট দাউদকান্দি ফিরোজ খান, নরসিংদী পোলট্রি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের সবুজ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের ২২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে আর আপনি ছয় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে ১০ লাখ মানুষের জনসমাবেশ করছেন-এমন একটা সময়ে যখন দেশের দুই কোটি পরিবার ঈদ করতে পারবে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বন্যায় আরো ৫০ লাখ মানুষ।
দেশি পোলট্রি চাষিদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, নীতিমালা না হলে সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে শিক্ষিত যুব সমাজকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৩ বছর । আজকে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পুষ্টি। যেটি জোগাড় করেছেন প্রান্তিক চাষিরা, খামারিরা। এখানে বড়দের কোনো অবদান নেই।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন একটু দেশের দিকে নজর দেন। চাষি, খামারি ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি নজর দেন। এরা আপনাকে বাঁচাবে। তা না হলে তাদের মতো আপনাকেও ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট ভোগ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রান্তিক এসব খামারিদের বাঁচাতে আমাদের একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা এই দেশটাকে বড় পুঁজিবাদীদের হাতে তুলে দেব নাকি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হাতে দেব।
তিনি বলেন, দেশের বড় পুঁজিবাদীরা ছোটদের খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে কিন্তু তারা জানে না আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বড় ও ছোট একসঙ্গে বসবাস উপযোগী করে রেখেছেন। এর বাইরে গেলে ধ্বংস নেমে আসে।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি সবকিছু সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি এক খবরে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই টাকা এসব প্রান্তিক
মানুষের ঘামে ভেজা কষ্টের টাকা। অথচ আমাদের সরকার বলেছে এই টাকার ৭ শতাংশ সরকারকে দিলে বৈধ হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে ৮ দফা দাবি জানান, বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের মহাসচিব কাজী মোস্তাফা কামাল।
১. কোন হ্যাচারির মালিক বাণিজ্যিকভাবে রেডি ব্রয়লার মুরগি ও লেয়ার মুরগি পালন করতে পারবে না। তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. খাদ্যের দাম কমাতে হবে। খাদ্য ও বাচ্চার মান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে।
৩. খামারিদের বিদ্যুৎ বিল, শিল্প হারে নিতে হবে।
৪. বিগত ২০১০ সালের ৭ মার্চ সরকার নির্ধারিত ১ দিনের ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চার দাম ৩০ ও ৩২ টাকা হারে দিতে হবে।
৫. রাণীক্ষেত, গাম্বরো ও বার্ড ফ্লু জাতীয় জটিল রোগের টিকা ও ওষুধ বিনা মূল্যে খামারিদের দিতে হবে।
৬. সকল খামারিদের একটি সমিতির আওতায় এনে জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. প্রাকৃতিক দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ভর্তুকি দিতে হবে। অথবা ইনস্যুরেন্সের আওতাভুক্ত করে ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।
৮. প্রত্যেক উপজেলার প্রধান বা বড় বাজারগুলিতে খামারিদের সমিতির অনুকূলে ২/৩ শতক জায়গা ওপর মুরগি ও ডিম বিক্রির দোকান নির্মাণ কর দিতে হবে।