অস্থায়ী ভবনে পাঠদানে ভোগান্তি

শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদির মধ্যে বৃষ্টির পানি

সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষকদের অফিস। ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে শ্রেণিকক্ষে যখন-তখন ঢুকে পড়ে কুকুর, ছাগল। স্থান সংকুলান না হওয়ায় সব শিক্ষার্থীর একসঙ্গে পাঠদান করানো যাচ্ছে না। তাই পালাক্রমে পাঠদান করাতে হচ্ছে। অস্থায়ী ভবনে পাঠদান করাতে গিয়ে এমনই সব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকু-ের সৈয়দপুর ইউনিয়নের মধ্যেরদারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ থেকেই বেড়ার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছে। তিনটি মাত্র শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। তিনটি কক্ষেই সমান হারে বৃষ্টির পানি পড়ছে, মেঝেতেও জমে রয়েছে পানি। শ্রেণিকক্ষের একপাশ বৃষ্টিকে ছেড়ে দিয়ে অন্যপাশে গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানি সংকট নিয়ে। অস্থায়ী ভবনে কোনো শৌচাগার না থাকায় পাশর্^বর্তী এক বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। তারা বলেন, বাচ্চাদের টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তারা ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। পার্শ^বর্তী যে বাড়ির টয়লেট শিক্ষকরা ব্যবহার করেন সেই বাড়ির লোকেরা অনেক সময় বাচ্চাদের টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেয়। এছাড়া অস্থায়ী এ ভবনে নেই কোনো টিউবওয়েল।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে এ বিদ্যালয়টিসহ উপজেলার মোট ছয়টি সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। দরপত্রের শর্তানুযায়ী যতদিন ভবনের কাজ শেষ না হয় ততদিন অস্থায়ী ভবনে পাঠদান করাবেন শিক্ষকরা। মানসম্মত একটি অস্থায়ী ভবন করে দেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান কেনু বলেন, ‘অস্থায়ী এ ভবনটি অত্যন্ত নিম্নমানের সরঞ্জামাদি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। অবর্ণনীয় দুর্দশায় আছি আমরা। নিরাপত্তার অভাবে অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। শৌচাগার না থাকায় পাশর্^বর্তী এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে আমাদের। তাদের বাড়িতে তিন পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি মাত্র শৌচাগার, স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুরোধে তারা সেটি আমাদের ব্যবহারের অনুমতি দিলেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অনেক শিশু ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরোচ্ছোফা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আমাদের অবগত করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পরিদর্শন করেছি। অস্থায়ী ভবনের পরিবেশ পাঠদানের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এটিকে পাঠদানের উপযোগী করতে এলজিইডি প্রকৌশলীকে আমরা জানিয়েছি। তবে আপাতত শিক্ষার্থীদের পাশর্^বর্তী মহানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছি।’

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছি।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রোজার আগেই বিদ্যালয়ের সভাপতিকে মেরামতের জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে রেখেছি। বাকি যা লাগে তাও দেব বলেছি। কিন্তু উনারা মেরামত করেনি। এখন যেহেতু আমরা জেনেছি মেরামতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘মেরামত কাজে খরচ হবে অনেক বেশি। ১৫ হাজার টাকায় কিছু হবে না, সেটা আমরা তাদের জানিয়েছি।’