এ ঘটনাগুলোও টাইমলাইনে থাক-
পরশু দিন আশিক ভাইয়ের সাথে আলাপে জানালেন, সিলেটে খাদ্যপণ্যের দাম বেশি, তাতে ১ হাজার জনের খরচ দিয়া ৫ শ জনরে খাওয়ানো যাইতাছে। শুকনা খাবার হিসেবে মুড়িও বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু মুড়ির দাম ১ শ টাকার ওপরে। ফলে মুড়িসহ অন্যান্য শুকনা খাবারও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
গতকাল (সোমবার) সাড়ে চারটার দিকে আরেক ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম, সিলেটে মুড়ির দাম কেমন? তিনি জানালেন ২২ কেজির বস্তা ১৭০০ টাকা, তবে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। সাড়ে সাতটায় জানালেন ১২০ টাকা কেজি।
আজ (মঙ্গলবার) মুড়ি কেনার জন্য ঢাকার নিকটবর্তী এক জেলার পাইকারী বাজারে ঢুকে মুড়ির দাম জানতে চাইলাম। দোকানি বললেন ৫০ কেজির বস্তার দাম ৪ হাজার টাকা।
আমি খুব ভালো দামাদামি যাকে চলতি ভাষায় বলে মুলামুলি করতে পারি। কিন্তু এখন আর মুলামুলি করতে ভাল্লাগে না। তাই দোকানিকে বললাম, 'ভাই, আপনে তো খুচরা বাজারের দাম চাইছেন। শেষ কত রাখতে পারবেন?' দোকানি তাদের মুখস্থ বয়ান জানালো, 'ভাই, মুড়ির স্টক কম, দাম আরও বাড়বো। তবে আপনে লইলে শেষ ৩৪০০ টাকা বস্তা রাখতে পারুম!' মনে মনে হিসেব করলাম, ৩৪ শ টাকা হলে মুড়ির কেজি হয় ৬৮ টাকা। তুলনামূলক দাম কম।
দোকানিকে বললাম, '৩ শ কেজি মানে ছয় বস্তা দেন'। দোকানি চোখ বড় করে তাকিয়ে বললেন, 'আপনেরে দেইখা বুঝন যায় আপনে দোকানদার না, এত মুড়ি দিয়া করবেন কী!" উনাকে বললাম, 'সিলেটে পাঠাব।'
দোকানি আবার প্রশ্ন করলেন, 'এই মুড়ি কি ত্রাণ হিসেবে যাইবো?' উত্তরে 'হ্যাঁ' জানাতেই দোকানির কণ্ঠ নরম হয়ে এলো, তিনি চা আনালেন।
তারপর বললেন, 'ভাই, মুড়ির বস্তার দাম ৩২ শ টাকা কইরা ধরলাম, এ স্টকের এইটা লাস্ট দাম। নতুন মাল আইলে দাম আরও বাড়বো।'
অবাক হলাম, আমি তো ৩৪ শ টাকায় কিনতেই রাজী ছিলাম, উনি ত্রাণের কথা শুনে ১২ শ টাকার লাভ ছেড়ে দিলেন। শুধু যে লাভ ছেড়ে দিলেন তাই নয়, কুরিয়ার/পরিবহনে পাঠাবো বলায় বস্তায় বাড়তি সেলাই করে দিলেন। বললেন, 'ভাই, এখন দুই বস্তা পাঠান। পরিবহনে ঠিকমতো পৌঁছায় কি না দেখেন। যদি ঠিকমতো পৌঁছায় তবে কাইল ফোন কইরা দিয়েন, বাকি মাল আমি পরিবহনে দিয়া দিমুনে, আপনি পরিবহন খরচটা বিকাশ কইরা দিয়েন'।
এসএ পরিবহন অফিসে মুড়ির বস্তা দিতেই জানাল জায়গা বেশি লাগবে, বস্তা প্রতি ৯ শ টাকা চার্জ। সিলেটে যাবে শুনে এখানেও প্রশ্ন, 'ত্রাণ?' বললাম, 'হ্যাঁ।'। সাথে সাথে দুই বস্তার চার্জ নেমে এলো মাত্র ১৫ শ টাকায়।
এবার দৃশ্যের অন্য আরেকটা দিক দেখি, প্রতিবছর দেশে বন্যা হয়। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় বলে 'সুপেয় পানির অভাব', সুপেয় পরের কথা পানযোগ্য পানিই পাওয়া যায় না। এ মৌসুমে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ, অথচ গত পনেরো বছর ধরেই দেখছি বন্যার মৌসুমে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের সংকট, আর যেখানে সংকট সেখানেই দাম বৃদ্ধি। এবারও ব্যতিক্রম নয়, দেশের সবচেয়ে বড় ওষুধের মার্কেট মিটফোর্ডেও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে না।