২২ বছর পরও হাহাকার

মিরপুরে এইচপি দলের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও আকরাম খান। এইচপি ইউনিটের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুজন। তবে তাদের দিকে এইচপি নিয়ে যতটা প্রশ্ন গেছে তার চেয়ে ঢের বেশি গেল জাতীয় দল নিয়ে। কেন এই ব্যর্থতা এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই বাংলাদেশের সাবেক দুই অধিনায়কের। উত্তরণের উপায়টা কী তাও অনেকটা অজানা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দুটি ড্র ও জিম্বাবুয়ে টেস্ট ছাড়া আর কোনো ম্যাচে টপঅর্ডার থেকে রান নেই বাংলাদেশের। তাই ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাসের এতদিন পরও দুর্জয়-আকরামদের আক্ষেপ করেই যেতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় সমস্যাটা দেখছেন- জাতিগত। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন পুরোদস্তুর ছোট ফরম্যাটে মনোযোগী। তাই বড় ফরম্যাটে উন্নতি নেই, ‘জাতিগত হিসেবে আমরা আসলে ছোট ফরম্যাটে বেশি আগ্রহী সবাই। দর্শক বলেন, ক্লাব অফিশিয়াল বলেন বা সংগঠক, আমরা টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছি, টেস্ট খেলছি অনেকদিন হয়ে যাচ্ছে। টেস্টের সংস্কৃতি, ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি এসবে আমাদের আরও যতœবান হতে হবে। এ ছাড়া টেস্টে ভালো খেলার অন্য কোনো উপায় আসলে নেই।’ ২০০০ সালের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেট সুযোগ-সুবিধা অনেক এগিয়ে। তবুও ক্রিকেটাররা এখন সেই আগের অবস্থাতেই পড়ে থাকাটা দুর্জয়ের কাছে রহস্যজনক, ‘সেটা তো কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকই, এখনো (এসব কথা) বলতে হয়। আমরা যখন শুরু করেছি তখন আমাদের যে অভিজ্ঞতা ছিল, আমাদের যে সুযোগ-সুবিধা ছিল সবকিছুই এখন তার থেকে অনেক ভালো। এবং প্লেয়াররাও অনেক ভালো আমাদের থেকে। তারপরও কেন ফল হচ্ছে না তা রহস্যজনক।’

দুর্জয় বাংলাদেশ দলের জন্য আলাদা একটা পরামর্শ দিলেন। যদি জয় পাওয়া কঠিন হয় তবে ড্র’র জন্যও তো খেলা যায়। তাহলে অন্তত হতাশার তালিকাটা বাড়ে না। টেস্ট বাঁচানোর জন্য উইকেটে পড়ে থাকা, সময় নষ্ট করা এ বিষয়গুলো ব্যাটারদের মধ্যে দেখেন না বলে জানালেন এই সাবেক, ‘অনেক সময় টাইমকে কিল করার জন্য যেভাবে খেলা দরকার সেটা করতে পারছি না। আরেকটা অপশন যে ড্র সেটা আমরা মনে হয় চিন্তা করি না। ড্র করলে কিন্তু অন্তত মাঝখানে একটা জায়গায় থাকা যায়। আমরা সবসময় জিততে গিয়ে হেরে যাচ্ছি। টেস্টে ড্রয়ের অপশন আছে সেটা মাথায় রাখা উচিত। আমরা যদি আর একটু মনোযোগী হই। রিকভারি অবশ্যই হবে।’

আক্ষেপের সুর বাংলাদেশের আরেক সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের কণ্ঠেও। অ্যান্টিগা টেস্টে সাকিব আল হাসানই শুধু রান করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নুরুল হাসান সোহান সঙ্গ দিয়েছেন তাকে। কিন্তু এক-দুজনের পারফরমে টেস্ট জেতা সম্ভব নয় বলে জানান আকরাম। তাছাড়া ব্যাটসম্যানদের অফফর্মও তার আক্ষেপের কারণ ‘টেস্টে যে রকম আশা করেছিলাম সেরকম কিন্তু হচ্ছে না। কারণ আমাদের একসঙ্গে কয়েকটা ব্যাটসম্যান ফর্মে নেই। ছোট ফরম্যাটে যেমন হয় আপনি এক-দুটা ওভার ভালো করেও রিকভারি করা যায়। কিন্তু টেস্টে এরকম না একসঙ্গে দল হয়ে ভালো করতে হয় মানে ১১ জনকেই ভালো খেলতে হয়। তো এখানে আমরা শুরুতেই অন্যদের দেওয়া চাপে পড়ে যাচ্ছি। শুধু বোলিং না দল হিসেবে ভালো করতে হবে। ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন যদি ১৫০ করে তাহলে বাকিদের দিয়ে ৩০০ সম্ভব। লম্বা ইনিংস না খেললে পারফরম্যান্স সম্ভব না।’

এর থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ক্রিকেটারদের চাপ না নেওয়ার পরামর্শ দিলেন আকরাম। তার ইঙ্গিতটা যে মুমিনুল-শান্তর দিকেই তা এই সাবেক অধিনায়কের কথাতেই স্পষ্ট, ‘মানসিক স্বচ্ছন্দ বাড়াতে হবে। বেশি চাপ যদি নিয়ে নেয় তাহলে সম্ভব না। আমাকে রান করতেই হবে এ জিনিসটা হলে হবে না।’ এছাড়া ক্রিকেটারদের সংবাদ মাধ্যম এড়িয়ে চলার পরামর্শও তার, ‘আর প্লেয়ারদের মিডিয়াকে এড়িয়ে চলতে হবে। আপনারা দেখেছেন ভারত যখন চ্যাম্পিয়ন হয় তার আগে এক বছরের মতো কোনো ক্রিকেটারকেই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেখিনি। কারণ ভালো করলে ভালো, আর যদি খারাপ করে তাহলে মিডিয়ার নিউজগুলো পড়লে মানসিক চাপটা বেড়ে যায়।’