মুখে প্লাস্টিকের পাত্র আটকে না খেতে পেরে শেয়ালটি মারা গেছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মুখে প্লাস্টিকের পাত্র আটকে অসুস্থ হয়ে পড়া শেয়ালটি উদ্ধারের দুদিন পর মারা গেছে। টানা কয়েক দিন না খেয়ে থাকার কারণেই শেয়াল শাবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার বিকেলে শেয়ালটির মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও জাবির আইন ও বিচার বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা।

এর আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ফেসবুক গ্রুপে একটি শেয়ালের মুখে প্লাস্টিকের বোতল আটকে অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়ে ছবিসহ পোস্ট দেন এক শিক্ষার্থী। এরপর পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশন’র হটলাইন নম্বরে কল করে বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর শনিবার শেয়ালটি উদ্ধারে অভিযানে নামেন সংগঠনটির সদস্যরা। অভিযানে গিয়ে প্রথম দিনেই শেয়ালটির দেখা পান তারা। তবে শেয়াল উদ্ধারের সরঞ্জাম না থাকায় সেদিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরদিন ডিপ ইকোলজির পক্ষ থেকে বন বিভাগের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। বন বিভাগ থেকে একজন উদ্ধারকারীসহ সরঞ্জাম পাঠানো হয়। রোববার রাতেও কয়েক ঘণ্টা উদ্ধারাভিযান চালানো হয়। তবে সেদিন খালি হাতেই ফিরতে হয় তাদের। পরদিন সোমবার রাতে শেয়ালটির দেখা পাওয়া যায়। তখন শেয়ালটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

এ বিষয়ে সৈয়দা অনন্যা বলেন, ‘আমরা যখন শেয়ালটি উদ্ধার করি ততক্ষণে সে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। প্রথমে তো ভেবেছিলাম শেয়ালটি আর বেঁচে নেই। তবে যখন দেখি, সে শ্বাস নিচ্ছে তখন শেয়ালটিকে আমরা নিয়ে এসে চিকিৎসা ও শুশ্রূষা দিতে থাকি।’

দুদিন এই সংগঠনের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন শেয়ালটিকে সুস্থ করে তুলেতে। তবে বেশ কয়েক দিন না খেয়ে থাকায় অপুষ্টিজনিত কারণে শেয়ালটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানান অনন্যা।

তিনি বলেন, ‘মুখে প্লাস্টিকের বয়াম আটকে থাকার কারণে প্রায় সাত-আট দিন শেয়ালটি না খেয়ে ছিল। আমরা যখন শেয়ালটিকে উদ্ধার করি তার আগে কয়েক ঘণ্টা শেয়ালটি বৃষ্টিতে ভিজেছে। গলায় প্লাস্টিক আটকে যাওয়ায় শেয়ালটি ছুটে বেড়িয়েছে। উদ্ধারের পর থেকেই স্যালাইন, গ্লুকোজ, শক্তিবর্ধক খাবার আমরা তাকে খাইয়েছি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে চিকিৎসাও প্রদান করা হয়েছে। তবে সে বিকেলে মারা যায়।’