ভয়ঙ্কর ভুমিকম্পের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে আফগানিস্তান। বুধবার ভোর রাতের ভুমিকম্পের পর দিনের বেলা আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ১৮টিতেই দেখা দেয় আকস্মিক বন্যা। এই বন্যায় দেশটিজুড়ে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ভুমিকম্পে নিহত হয় আরও এক হাজারের বেশি মানুষ।
এর আগে ভোর রাতে পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। আহত হয় আরও দেড় হাজার মানুষ। ভুমিকম্প ও বন্যা মিলিয়ে একদিনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েছে দেশটিতে।
আফগানিস্তানের বন্যা উপদ্রুত প্রদেশগুলো হলো কুনার, নানগারহার, নুরিস্তান, লাঘমান, পানশির, পারওয়ান, কাবুল, কাপিসা, ময়দান ওয়ার্দাক, বামিয়ান, গজনি, লোগার, সামানগান, সার-ই-পুল, তাখার, পাকতিয়া ও দাইকুন্দি।
কুন্দুজের অধিবাসীরা জানান, কুন্দুজের শত শত একর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এখনও বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।
নানগারহার প্রদেশেল আর্চিন জেলার বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। অতি বর্ষণে বাড়ির ছাদ ধসে আর্চিন জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৫ জন।
আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলাউই শরফুদ্দিন মুসলিম তোলো নিউজকে বলেন, ‘অতি বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় আহতদের অধিকাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বন্যার কারণে যাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁবু দেওয়া হয়েছে।’
বুধবার (২২ জুন) মধ্যরাতের পর মানুষজন ঘুমিয়ে থাকার সময় আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে আঘাত হানে প্রবল এই ভূমিকম্প। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। এতে আফগানিস্তানের পাশাপাশি কেঁপে ওঠে প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং ভারতও।
মধ্যরাতের পর (রাত ১টা ৩০ মিনিটে) ভূমিকম্পটি আঘাত হানায় সেসময় ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধসে পড়া বাড়িঘরের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অনেকে। ভূমিকম্পের পর থেকে শত শত পরিবার এখনও নিখোঁজ রয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
এর আগে, ২০১৫ সালে দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০০২ সালে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে প্রাণ যায় প্রায় ১ হাজার মানুষের। এছাড়া ১৯৯৮ সালে একই মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলে কমপক্ষে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ নিহত হন।