মাওয়ায় ৯০টি টয়লেট ৯ কোটি টাকা দিয়ে তৈরি করেছে: ফখরুল

মাওয়ায় ৯০টি টয়লেট নির্মাণে নয় কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘মাওয়ায় ৯০টি টয়লেট ৯ কোটি টাকা দিয়ে তৈরি করেছে। এই টাকা যদি সিলেটের বন্যার্তদের দেওয়া হতো তাহলে মানুষকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। আওয়ামী লীগ যত দিন ক্ষমতায় থাকবে তত দিন তারা মানুষের জন্য কোনো কাজ করবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০৪ সালের বন্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে গেছেন। আর সাতজন মানুষকে নিয়ে গিয়ে লোক দেখানো সাতটা প্যাকেট তুলে দিয়ে গেছেন। এটাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের তফাৎ’।

বৃহস্পতিবার বন্যা দুর্গত সিলেটে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গর্দনা এলাকার খাজার মোকাম উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

বিএনপি পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নিজেদের পেজে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল সিলেটবাসীর এ দুঃসময়ে বন্যা দুর্গতদের পাশে নেই। গত দুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এসে হেলিকপ্টারে ঘুরে গেছেন। তিনি সার্কিট হাউসে এসে মন্ত্রী-এমপিসহ বড় বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। আর ৭ জন মানুষকে নিয়ে গিয়ে লোক দেখানো ৭টা প্যাকেট তুলে দিয়ে গেছেন। যেখানে বন্যার পানিতে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা, কৃষি ফসল, গবাদিপশু ভেসে গেছে। তাদের জন্য তিনি কোনো কিছু দেন নাই। তিনি ৩০ লাখ বন্যার্তদের জন্য ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ টাকার বিপদগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের কী হবে? সরকারের এত বড় বিশাল বিশাল বাহিনী না কি কাজ করছে? তাদের এমপিরা তো জনগণের কাছে নাই। এর মূল কারণ হচ্ছে তারা বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। জনগণের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নাই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা উন্নয়নের স্লোগান দিচ্ছে। তারা দুর্নীতি করার জন্য শুধু বড় বড় প্রজেক্ট করছে, যেখান থেকে তারা লুটপাট করতে পারবে। তারা সাধারণ জনগণের জন্য কিছু করছে না। তারা এখন পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যস্ত আছে। বন্যায় মানুষ ভেসে যাচ্ছে, খাবার পাচ্ছে না, চিকিৎসা পাচ্ছে না। সেদিকে সরকারের কোনো নজর নেই। মনে হয় দেশে শেখ মুজিব আর শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলা দিয়ে গৃহবন্দী করে রেখেছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসনে রেখেছে। এই সরকার ¶মতা থেকে বিতাড়িত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় তাকে বহনকারী বিমান সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেট পৌঁছে তিনি হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, ‘আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আপনাদের কাছে এসেছি। আমরা জানি আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু দিতে পারব না। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছি। এই সরকার জনগণের পাশে নেই, কারণ তারা বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে আছে। বিএনপি অতিতেও আপনাদের পাশে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশা আল্লাহ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী ইয়াসিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজ আলী চেয়ারম্যান, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বাহার প্রমুখ।