কাঁচাবাজারে বন্যার প্রভাব

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহ বন্যার কবলে। মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নিচু এলাকা ডুবে তলিয়েছে ফসলের ক্ষেত। এছাড়া বানের পানির তোড়ে রাস্তাঘাট ভেঙে পণ্য সরবরাহেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। যার প্রভাব পড়েছে ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে। বিশেষ করে সব ধরনের সবজি ও নদীর মাছের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজিতে ১০ টাকার বেশি বেড়েছে। হঠাৎ করে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনাও কমেছে খুচরা বিক্রেতাদের। তবে এ সময় চালের দাম কিছুটা কমেছে। 

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, কাঁকরোল ৫০-৫৫ টাকা, করলা ৫৫-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা, পটোল ৪৫-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, মরিচ ৫৫-৬০ টাকা, গাজর ১৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, আলু ২৮-৩০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৫৫-৬০ টাকা। প্রতিটি মাঝারি আকারের কুমড়ো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। এসব সবজি গত সপ্তাহেও ৫৫-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া কাঁকরোল ৪০-৪৫ টাকা, করলা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০-৩৫ টাকা, পটোল ৩০-৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা, মরিচ ৪০-৪৫ টাকা, গাজর ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা সবজি, মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে আগের তুলনায় বেচাকেনা কমে গেছে। মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. নাসিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। যার ফলে সবজির দাম বেড়ে গেছে। বাজারে সব ধরনের সবজিতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেড়েছে।

এদিকে চালের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে মিনিকেট, বিআর ও নাজিরশাইলের দাম কমেছে। যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে এসব চাল কেজিতে ২-৩ টাকা কমে মিনিকেট ৬৬-৬৮ টাকা, বিআর ৫৩-৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫-৭৮ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা।

কারওয়ানবাজারের জনতা রাইসের কর্মচারী শফিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২-৩ দিন আগে চালের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। চারিদিকে বন্যা চললেও পরিস্থিতি আগের থেকেও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চালের দাম যেন আর না বাড়ে তাই আমরা চাই। তিনি বলেন, আমাদের দোকানে থাকা চাল গত সপ্তাহের কেনা। বস্তাপ্রতি কিছুটা বাড়তি দামে কেনা থাকলেও কেনা দামে বিক্রি করলে  লোকসান গুনতে হবে না। তবে চালের দাম কমলে প্রতি বস্তায় অনেক লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হবে বলে এখনই কেনা দামে বিক্রি করছি।

এদিকে মুদিপণ্যের মধ্যে গত সপ্তাহের তুলনায় ডালের দামও অনেকটা কমেছে। গত সপ্তাহের ১৪০-এর আমদানি করা মসুর ডাল চলতি সপ্তাহে ১৩০ টাকা, দেশি মসুর ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত দামেই বুটের ডাল ৮০-৮৫ টাকা ও হেলন ডাল ৯০ টাকায় বিক্রি চলছে।

সবজি বাজারের মতো মাছের বাজারেও কিছুটা উত্তাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে নদীর মাছ গড়ে কেজিতে ৬০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাষের মাছও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝিতে বেড়ে যাওয়া দামে বড় আকারের চাষের কাতল মাছ ৪০০ টাকা, রুই ৩০০-৩৩০, মাঝারি রুই ২৮০-২৯০, তেলাপিয়া ২০০-২২০, পাঙাশ ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নদীর মাছের মধ্যে গত সপ্তাহের ৭০০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেলে মাছ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৭৭০ টাকা, ৬৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া গুঁড়ো চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৩০ টাকা, হাজার টাকার ইলিশ মাছ বিক্রি চলছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের মাছ ব্যবসায়ী জহির দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমাদের বিক্রি আগের থেকে অনেক কমেছে। সাধারণ জনগণের অবস্থাও তেমন ভালো না। তাদের হাতে টাকা নেই। আগে যারা ২ কেজি মাছ একত্রে নিত এখন তারা আধা কেজির বেশি মাছ নেয় না।

তবে অপরিবর্তিত রয়েছে দেশি, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি মানভেদে ২৪০-২৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকা। ডিমের ডজন ১২০ টাকা। মুরগির মতোই গরুর ৬৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৮৬০ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা।