টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আদাবাড়ি গ্রামে বন্যার পানির স্রোতে একটি ব্রিজ ধসে পড়েছে। ফলে গত চার দিন ধরে ওই এলাকার কড়াইল ও হিলড়াসহ ১০ গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ভোগান্তি পোহাচ্ছে গ্রামবাসী। স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা গেছে, জনদুর্ভোগ লাগবে এলজিইডি গত ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে কড়াইল-আদাবাড়ি সড়কের আদাবাড়ি এলাকায় ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রশস্ত ব্রিজটি নির্মাণ করে।
পরবর্তীতে ওই রাস্তাটি পাকা করা হয়। রাস্তা পাকা হওয়ায় মহেড়া ইউনিয়নের হিলড়া, গোড়াকী, আদাবাড়ি, কড়াইল, বানিয়ারা, ডোকলাহাটি গ্রামের লোকজন ছাড়াও উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, বৈল্যানপুর, ফতেপুর ও তরফপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লোকজনের যাতায়াতে সুবিধা হয়।
ওইসব এলাকার লোকজন এবং প্রায় তিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর চলাচলে ব্রিজটি জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
গত বছরের বর্ষায় পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজটির নিচ থেকে মাটি সরে যায়। এতে ব্রিজটির পূর্ব-দক্ষিণ পাশের কিছু অংশ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এলজিইডি মির্জাপুর অফিসের কর্মকর্তারা ব্রিজটি পরিদর্শনে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ওই ব্রিজ দিয়ে জন-যান চলাচল বন্ধ হয়নি। সংস্কারবিহীন ব্রিজটি ওভাবেই থাকে।
এদিকে গত এক সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে তা প্রবাহিত হতে থাকে।
ফলে বুধবার বিকেলে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।
এ ছাড়া এই পানির স্রোতে ব্রিজের দুই পাশের পাকা রাস্তাও ভেঙে পড়ে। এতে ওই এলাকার আদাবাড়ি ছাড়াও হিলড়া, ডোকলাহাটি, কড়াইল, থলপাড়া, বৈল্যানপুর ও ফতেপুরসহ ১০ গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এছাড়া ওই এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
হিলড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম, আজাহার মিয়া, সাইদুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, আব্দুল মান্নান ও জানান, ব্রিজ ধসে যাওয়ায় ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে তাদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে একদিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, গত বছর ব্রিজটির একাংশ ভেঙে গেলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুরো ব্রিজ ধসে গেছে।
এদিকে ব্রিজ ভেঙে পড়ার খবর শুনে স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে ওই স্থানে অস্থায়ীভাবে সাঁকো নির্মাণের জন্য মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, অস্থায়ীভাবে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হবে।