পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সারা দেশের মেলবন্ধন ঘটবে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিজনরা। তারা বলছেন, এ সেতু রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিনিময়ের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন প্রান্তিক সংস্কৃতির সঙ্গে রাজধানীর মানুষের যোগাযোগ স্থাপন হবে, অন্যদিকে রাজধানীর মধ্য দিয়ে সারা দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। দেশের প্রথম স্টুডিও থিয়েটার চর্চা শুরু হয় বরিশালে। ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম স্টুডিও থিয়েটার গড়ে তোলে শব্দাবলি নাট্যদল। এই নাট্যদলের সভাপতি সৈয়দ দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বরিশালে বিভিন্ন সময় আমরা আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব আয়োজন করেছি, নাট্য কর্মশালার আয়োজন করেছি। এসব আয়োজনে যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। আমাদের নাট্যদল ঢাকায় গিয়েও বেশ কিছু নাট্যপ্রদর্শনী করেছে। ঢাকায় আমাদের নাট্যপ্রদর্শনী করতে হলে সারা রাতের লঞ্চ জার্নি করে, পরদিন নাট্য প্রদর্শনী করে আবার সারা রাতের লঞ্চ জার্নি করে ফিরতে হতো। এখন পদ্মা সেতুর কারণে সেটি সহজ হবে। সকাল ৯টায় রওনা দিয়ে ঢাকার নাট্যপ্রদর্শনী শেষ করে আবার রাতেই বরিশালে ফিরতে পারব। পদ্মা সেতু অবশ্যই আমাদের সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ফরিদপুরেও রয়েছে বেশ কটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারাও পদ্মা সেতুকে ঘিরে স্বপ্ন সাজাচ্ছেন। ঢাকার আরণ্যক নাট্যদলে কাজ করেন নাট্যকার ও নির্দেশক অপু মেহেদী। তিনি স্বপ্ন দেখছেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর নিজ এলাকায় অন্তত সপ্তাহে দুদিন যাবেন এবং সেখানে নাট্যদল গড়ে তুলবেন। সেভাবে কর্মপরিকল্পনাও সাজাচ্ছেন।
অপু মেহেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিজ এলাকায় একটা পেশাদার নাট্যদল গড়ে তোলার স্বপ্ন অনেক দিনের। জীবিকার জন্য ঢাকায় থাকতে হয়, ইচ্ছা থাকার পরও ফরিদপুরে নিয়মিত যেতে পারতাম না। সেখানে নাট্যদল এবং শিশুদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক স্কুল করার ইচ্ছা আছে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর দূরত্ব কমছে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। এর ফলে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দ্বারও খুলে যাচ্ছে। কুয়াকাটায় পর্যটন যেমন বিকশিত হবে, একই সঙ্গে বরিশাল, ফরিদপুরসহ ওই অঞ্চলের প্রান্তিক সংস্কৃতি ছড়িয়ে যাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। এই সেতু বাংলাদেশের গৌরবের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে।’