বায়েজিদের গাড়ি জব্দ, বন্ধুর দেশত্যাগ ঠেকাতে সতর্কতা

পদ্মা সেতুর নাট খুলে ভাইরাল হওয়া বায়েজিদ তালহার (৩১) গাড়ি জব্দ ও ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় সঙ্গে থাকা তার কাতারপ্রবাসী বন্ধু কায়সারের দেশত্যাগ ঠেকাতে সতর্ক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম (মাসুদ) এ তথ্য জানান। সোমবার বায়েজিদের গাড়িটি জব্দ করা হয়।

এছাড়া, ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা বায়েজিদের বন্ধু তালহাকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। কায়সার যেন দেশ ছাড়তে না পারেন, সে জন্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন রবিবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওই দিন দুপুরের পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক পদ্মা সেতুর পিলারের নাট খুলে তুলে ধরেছেন।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে বায়েজিদ তালহাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় সোমবার সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে বায়েজিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, সোমবার রাতে বায়েজিদ তালহাদের শান্তিনগরের বাসা থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। গাড়িটি বায়েজিদের নামে নিবন্ধন করা।

বায়েজিদ কেন পদ্মা সেতুর নাট খুলেছিলেন জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে সে এখনো ‘মুখ খোলেনি’। এখন পর্যন্ত তাঁরা জানতে পেরেছেন, বায়েজিদের সঙ্গে তাঁর বন্ধু কায়সার ছিলেন। নাট খোলার ভিডিও ধারণ করেন কায়সার। পরে সেটি বায়েজিদ ও কায়সার দুজনেরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়।

রেজাউল করিম বলেন, কায়সার বছর দশেক আগে কাতারে যান। তিনি সেখানেই থাকেন। মাসখানেক আগে দেশে এসেছেন। তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে বিষয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের তেলিখালী গ্রামের ছেলে বায়েজিদ ঢাকা কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাসে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। তাঁর এক ভাই রাজস্ব কর্মকর্তা, আরেক ভাই ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করেন। গতকাল তাঁদের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী।