ধর্ষণের শিকার হলেও আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের বিচার চাওয়া কিশোরীর মায়ের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আসামি আক্তারুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে নীলফামারীর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। রবিবার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড আইনজীবীর মাধ্যমে কিশোরীর মা এ আপিল করেন। তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বদরুন নাহার।
আদেশের বরাতে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আসামিকে আত্মসমর্পণের সময় তার জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন হাইকোর্ট।’
গত ১৫ জুন সকালে হাইকোর্টের এই বেঞ্চের বিচারকাজ চলাকালীন এজলাসের ডায়াসের সামনে এসে দাঁড়ান এক কিশোরী (১৬) ও তার মা (৪৫)। এ সময় আদালতের জিজ্ঞাসায় কিশোরী বলে, তারা নীলফামারীর বাসিন্দা। বিজিবিতে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কর্মরত এক সৈনিক তাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু নীলফামারীর আদালত আসামিকে খালাস (অব্যাহতি) দিয়েছে।
কিশোরী বলে, ‘আমরা গরিব মানুষ। মামলা চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। আপনাদের কাছে বিচার চাই।’ হাইকোর্ট এ সময় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই কিশোরী এসএসসি পরীক্ষার্থী।
২০২০ সালের ২১ নভেম্বর থানায় করা এজাহারে কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, প্রতিবেশী যুবক বিজিবিতে সৈনিক পদে কর্মরত আক্তারুজ্জামান (২৮) গত বছরের ৯ নভেম্বর তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে তার ১৪ বছরের মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে বোনের নবজাতক দেখানোর কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। পরদিন তিনি মেয়ের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর নীলফামারী সদর হাসপাতালে কিশোরীর ছাড়পত্রে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর আক্তারুজ্জামানের অব্যাহতির আরজি জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ।
পরে এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না- রাজির আবেদন করেন মামলার বাদী। শুনানি শেষে নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ১ চূড়ান্ত প্রতিবেদন সঠিক উল্লেখ করে না-রাজির আবেদন খারিজ করে দেয়। গত ৩১ মে প্রকাশিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, নথিপত্রে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে এই মামলার তদন্ত করেছেন।