পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধসহ বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিতে নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের জবাব দিয়েছে ইউনূস সেন্টার। বুধবার ইউনূস সেন্টারের ওয়েবসাইট মুহাম্মদ ইউনূস ডট ওআরজি-তে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি (জুন ২০২২) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই কয়েক বছর আগেও করা হয়েছিল এবং আমরা তখন এর জবাবও দিয়েছিলাম। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একই অভিযোগ আবার করছেন এবং এর সঙ্গে নতুন আরো অভিযোগ যুক্ত করেছেন, সাংবাদিকবৃন্দ এবং অন্যরাও এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য জানতে চাচ্ছেন, তাই এগুলোর জবাবও আবার দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে; যাতে এর মাধ্যমে জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে পারেন। আমরা আমাদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরলাম’।
ইউনূস সেন্টারের বিবৃতিতে প্রথমে অভিযোগ ও এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়-
অভিযোগ: ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটা ব্যাংক, তার যিনি এমডি তিনি হচ্ছেন ডক্টর ইউনূস। আইনমত তার ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এমডি থাকা যায়। বেআইনিভাবে সে ৭০-৭১ বছর বয়স পর্যন্ত, তার যখন বয়স তখন সে এমডি ছিল। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে নোটিশ দেয়। কিন্তু তাকে কিন্তু কোনো অপমান করা হয়নি। আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব এবং উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাহেব তাকে প্রস্তাব দেয় যে, আপনি গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হয়ে যান। উপদেষ্টা ইমিরেটাস হিসেবে আপনাকে আমরা মর্যাদা দেব। কিন্তু উনি ওই এমডিই উনাকে থাকতে হবে। এখন একজন এমডি ব্যাংকের, তার তো বাইরে গেলে জিও নিতে হয়, সে তো জিও নেয়নি কোনোদিন। বরং আমরাও তাকে অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছি’।
ইউনূস সেন্টারের জবাব: ‘শুরুতেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে, গ্রামীণ ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যার ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহিতারা। একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এ নিয়োগের জন্য কোনো বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিল না। প্রফেসর ইউনূস ৬০ বছর বয়সে পদার্পণ করলে তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরিচালনা পরিষদকে জানান যে, যেহেতু তার বয়স ৬০ বছর হয়েছে তারা একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। পরিচালনা পরিষদ অন্য কোনো রূপ সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকেই দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেন। পরিচালনা পরিষদ তার বর্তমান নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবার পর তাকেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পুনঃনিয়োগ প্রদান করেন’।
‘সে সময় তার বয়স ছিল ৬১ বছর ৬ মাস। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদনগুলোর একটিতে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিলে গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আর কোনো পর্যবেক্ষণ করা হয়নি’।
‘জিও বিষয়ে বলতে হয়, বিদেশ ভ্রমণের জন্য তাকে কখনো জিও নিতে হয়নি, কারণ তিনি সরকারি কর্মচারী ছিলেন না। এ ব্যাপারে সরকার কোনো সময় আপত্তি তোলেনি। যখন ২০১১ সালে এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলো এবং প্রফেসর ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হলো, তখন ব্যাংকটির মৌলিক আইনি মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ে গেল, যা প্রফেসর ইউনূস ক্রমাগতভাবে সব সরকারের সমর্থন নিয়েই গড়ে তুলেছিলেন। এখন অপসারণের নির্দেশের কারণে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো’।
‘তিনি (ড. ইউনূস) চেয়েছিলেন মহামান্য হাইকোর্ট ব্যাংকটির আইনি মর্যাদা সমুন্নত রাখুন। বিষয়টির আইনগত দিকগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। প্রফেসর ইউনূস তার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করেছেন, যেমনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার অভিযোগ করছেন-বিষয়টি মোটেই তা নয়। প্রফেসর ইউনূস যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তা ছিল ব্যাংকটির আইনি মর্যাদা রক্ষা। কেন না তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন, যে আইনি কাঠামোয় তিনি বিগত সব সরকারের সহায়তায় গ্রামীণ ব্যাংক গড়ে তুলেছিলেন, তা দারিদ্র্য নিরসনে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যাংকটিকে সফল করে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে’।
‘তার চাকরি বিষয়ে বলতে হয়, প্রফেসর ইউনূস ৬০ বছর বয়সে পদার্পণের পর তিনি কয়েকবারই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিচালনা পরিষদ প্রতিবারই তাকে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেছিলেন। ২০১০ সালে প্রফেসর ইউনূস তার একজন উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জনাব এ এম এ মুহিত সাহেবকে অনুরোধ করেছিলেন। যেহেতু তিনি নিজেই একজন যোগ্য উত্তরসূরির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ ছেড়ে দিতে চাইছিলেন। অর্থমন্ত্রী জনাব মুহিতকে লেখা প্রফেসর ইউনূসের চিঠি সে সময়ে দেশের সব সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ আঁকড়ে রাখার জন্য প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন’।
‘এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রফেসর ইউনূসের বয়স ৬০ বছর অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০১ সালে। কিন্তু সে সময়ে সরকার কখনোই তার বয়স নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও এ-নিয়ে কোনো প্রশ্ন করেনি। প্রফেসর ইউনূস ব্যাংকের আইনি মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হাইকোর্টে যান। তিনি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার চাকরি ধরে রাখার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই’।
‘মহামান্য হাইকোর্ট এই কারণ দেখিয়ে প্রফেসর ইউনূসের পিটিশন শুনানির জন্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান যে, এ বিষয়ে তার কোনো “Locus Standi” নেই অর্থাৎ এ বিষয়ে পিটিশন দাখিল করার কোনো এক্তিয়ার তার নেই। এরপর তিনি আপিল বিভাগে যান এবং আপিল বিভাগও একই যুক্তিতে তার আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান’।
‘এরপর প্রফেসর ইউনূস মে ১২, ২০১১ তারিখে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন’।
অভিযোগ: ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ যখন আসলো, ইউনূস তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে এবং আমাদের সরকারের বিরদ্ধে মামলা করল। কিন্তু প্রত্যেকটা মামলাই সে হেরে গেল, কারণ আইন তো তাকে কভার দিতে পারে… আইন তো তার বয়স কমাতে পারে না। কোর্ট তো আর তার বয়স কমাতে পারে না। হেরে গিয়ে আরো ক্ষেপে গেল। হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে আমাকে ফোন করিয়েছে, টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার, তাকে দিয়ে ফোন করিয়েছে, তারপর একজন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি আসছে... সবাই কি... ইউনূসকে ব্যাংকের এমডি রাখতে হবে’।
‘মাননীয় স্পীকার, আমি জাতির কাছেই প্রশ্ন করি, ব্যাংকের এমডিতে কী এত মধু ছিল যে ওইটুকু উনার না হলে চলত না? সে তো নোবেল প্রাইজ পেয়েছে। তো আমি জিজ্ঞেস করলাম নোবেল প্রাইজ যে পায় সে তো এমডি পদের জন্য এত লালায়িত কেন? সেটা আমার মনে হয় সকলের একটু চিন্তা করে দেখা উচিৎ’।
‘এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যাতে টাকাটা বন্ধ করে, তার জন্য বারবার ইমেইল পাঠানো, হিলারীর সঙ্গে দেখা করা, এর ফাঁকে দিয়ে ইমেইল পাঠানো এবং তার সাথে আমাদের একজন সম্পাদকও খুব ভালভাবে জড়িত ছিল। কাজেই একটা কথা হচ্ছে যে এদের মধ্যে কি কোন দেশপ্রেম আছে?’
ইউনূস সেন্টারের জবাব: ‘গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রফেসর ইউনূসের অপসারণের সংবাদটি বিশ্বব্যাপী সংবাদে পরিণত হয়েছিল। তবে তা এ কারণে নয় যে তিনি এ পদে থাকতে চেয়েছিলেন। বরং এ কারণে যে বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ দর্শন ও এর কর্মপদ্ধতির অনুরাগী ও অনুসরণকারীদের বিশাল কমিউনিটির কাছে এটি ছিল অত্যন্ত অবিশ্বাস্য ও হতবুদ্ধিকর একটি ঘটনা। তারা বিভিন্নভাবে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। তারা প্রফেসর ইউনূসকে তার পদে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না, তারা এটা দেখতে চাইছিলেন যে, গ্রামীণ কর্মসূচিগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। দরিদ্রদের আশার স্থল হিসেবে বিশ্বজুড়ে গ্রামীণকে কী দৃষ্টিতে দেখা হয় এটি ছিল তারই একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র’।
‘প্রফেসর ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তা একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কাহিনী। দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধে বিশ্ব ব্যাংকের সতর্কসংকেতের ঘটনা একই সময়ে ঘটেছিল। একই সময়ে চলমান দুটি আলোচনার বিষয়কে মিশিয়ে ফেলে একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কাহিনী সৃষ্টি করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, প্রফেসর ইউনূস হিলারি ক্লিনটনের সাথে চক্রান্ত করে বিশ্ব ব্যাংকের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল’।
‘পদ্মা সেতুতে বিশ্ব বাংকের অর্থায়ন বন্ধে প্রফেসর ইউনূস চাপ প্রয়োগ করেছেন এ বিষয়টি প্রথমবার যখন উল্লেখ করা হয় তখনই প্রফেসর ইউনূস এ বিষয়ে একটি সুষ্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সকল মানুষের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন এবং তিনিও এ স্বপ্নে বিশ্বাসী। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রফেসর ইউনূস বলেন ‘আজ পদ্মা সেতুর নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ায় দেশের মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। দেশের সব মানুষের সঙ্গে আমিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি’।
‘বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে প্রফেসর ইউনূস পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধে তার ‘বিশাল প্রভাব’ কাজে লাগিয়েছেন। প্রফেসর ইউনূস বিশ্ব ব্যাংকের ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ না করলেও তিনি তার বন্ধু হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে তা করিয়েছেন। অন্য কথায়, বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক চুক্তি বাতিলের ঘটনায় তার কোনো না কোনো সংযোগ নিশ্চয়ই আছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন যে, একটি নামকরা সংবাদপত্রের এক সম্পাদক অর্থায়ন বন্ধে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে প্ররোচিত করতে বিশ্ব ব্যাংক কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত-গ্রহণের কঠিন জগৎ দুই বন্ধুর খেয়াল-খুশি বা একজন পত্রিকা সম্পাদকের সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। প্রফেসর ইউনূস যত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিই হন না কেন, তার যত ‘প্রভাবশালী বন্ধুই’ থাকুক না কেন, একটি ৩০০ কোটি ডলারের প্রকল্প শুধু এ কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে না যে, তিনি চাইছিলেন এটা বাতিল হয়ে যাক। অভিযোগের জবাবে আবারো বলতে হচ্ছে যে, প্রফেসর ইউনূস পদ্মা সেতু বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে কখনও কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ জানাননি। সুতরাং বিষয়টি নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত’।
আরেকটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ‘১) বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সম্মেলনে বক্তা হিসেবে প্রদত্ত ভাষণের জন্য লেকচার ফি। তিনি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ফিপ্রাপ্ত বক্তাদের অন্যতম। তার আয়ের প্রধান উৎস এটি। ২) পৃথিবীর ২৫টি ভাষায় প্রকাশিত তার বইগুলোর রয়্যালটি। তার বইগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেস্ট সেলার তালিকাভূক্ত। ৩) প্রথম ও দ্বিতীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থায়ী আমানত হিসেবে রেখে তা থেকে আয়’।
‘প্রথম ও দ্বিতীয় উৎস থেকে প্রতিটি প্রাপ্তির তথ্য কর কর্তৃপক্ষের নিকট নিয়মিত জমা দেয়া হয়। সুতরাং তার আয়ের উৎস সম্বন্ধে কিছু না জানার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না’।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তার লেকচার ও বই থেকে প্রাপ্ত সমস্ত আয় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে গ্রহণ করেন। ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া এ সংক্রান্ত ডকুমেন্ট কর কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হয়। ফলে তার আয়ের উৎস সরকারের অজানা এ কথা একেবারে সত্য নয়। প্রফেসর ইউনূস তার টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসাবে রাখেন। তিনি কখনো স্টক বা শেয়ারে কোনো রকম বিনিয়োগ করেন না। পৃথিবীর কোথাও কোনো কোম্পানীতে তার কোনো শেয়ার নেই’।
‘পৃথিবীর অনেক দেশের সরকার, করপোরেশন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও প্রায়োগিক কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের অনেকে প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও ব্যবসায়িক কাঠামোর প্রতি তাদের সার্বিক ঐকমত্য প্রকাশ করতে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘ইউনূস’ বা ‘গ্রামীণ’ নাম যোগ করে পরিচিতি দেন। তাদের ব্যবসায়ে এ নামগুলোর ব্যবহার শুধু ইউনূসের দর্শনের প্রতি উদ্যোক্তাদের একনিষ্ঠতার বহিঃপ্রকাশ। কোনোভাবে এ ব্যবসাগুলোয় ইউনূস বা গ্রামীণের মালিকানার পরিচয় বহন করে না। তাদের ব্যবসাগুলি তাদের স্ব-স্ব দেশের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত। এদের অর্থায়নও হয় উদ্যোক্তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী। এসব ব্যবসার কোনোটিতে প্রফেসর ইউনূসের কোনো বিনিয়োগ নেই। এই ব্যবসাগুলির কোনো কোনোটি পরবর্তীতে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। তারা তাদের সফলতার কথা গর্বের সঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছে যখন তুলে ধরে, তখন তাদের সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানের পথ বের করার উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে পাওয়া তাত্ত্বিক কাঠামো এবং অভিজ্ঞতার জন্য সব সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে’।
‘প্রফেসর ইউনূস বিশ্বব্যাপী তার দর্শন ছড়িয়ে দেন, টাকা নয়। তিনি অনেকবার বলেছেন যে, পৃথিবীর কোথাও কোনো কোম্পানিতে তার কোনো শেয়ার নেই, পৃথিবীর কোথাও কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তিনি কোনো বিনিয়োগ করেননি’।
এ ছাড়া বিবৃতিতে ‘ক্লিনটন ফাউন্ডেশন’সহ অন্য ফাউন্ডেশনে কয়েক লাখ ডলার অনুদান, গ্রামীণফোনসহ বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয় ইনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে।