প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় শাস্তি সালাহ-সহ ১৯ জনের

২০১৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত ২০ জনকে শাস্তি দিল আদালত। সালাহ আব্দেসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

নয় মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হলো আদালতে। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর স্টেড দ্য ফ্রান্স ফুটবল স্টেডিয়াম-সহ প্যারিসের কাফে ও রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় ১৩০ জন মারা যান।

সালাহ ছাড়া সেই হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়জনই আত্মঘাতী হয় অথবা পুলিশের গুলিতে মারা যায়। ইসলামিক স্টেট বা আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে।

সালাহ-ও নিজেকে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বিস্ফোরণ ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এছাড়া বাকি ১৯ জন সরাসরি হামলায় না থাকলেও সাহায্যকারীর ভূমিকায় ছিল। তারাও দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সালাহকে সারা জীবন জেলে বন্দি হয়ে থাকতে হবে। সে প্যারোলেও ছাড়া পাবে না।

 

মামলার ইতিহাস

সালাহ আব্দেসলাম হলো ৩২ বছর বয়সি ফরাসি নাগরিক। তার বিরুদ্ধে প্রচুর অপরাধের অভিযোগ আছে। অপহরণ, হত্যা, সন্ত্রাসবাদী চক্রান্তের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০১৫-র হামলার পর সে ফ্রান্স ছেড়ে পালায়। ২০১৬-তে সালাহকে বেলজিয়াম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখনই একটি গুলিচালনার মামলায় তার ২০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

অন্য ১৯ জন অভিযুক্ত সালাহ-সহ ১০ জনের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছিল। অন্য সব ধরনের সহায়তা করেছিল। এদের মধ্যে ছয়জন পলাতক। একজন তুরস্কের জেলে বন্দি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ আছে। বাকিরা সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

আদালতে শুনানি

আদালতে সরকারপক্ষের আইনজীাবীরা দাবি করেছিলেন, সালাহকে সারা জীবনের জন্য জেলে বন্দি থাকার নির্দেশ যেন দেয়া হয়। এমনকী কখনো সে যেন প্যারোলে ছাড়া না পায়। দীর্ঘ শুনানিতে সেই ঘটনায় আহত ও বেঁচে যাওয়া মানুষরা আবেগতাড়িত কথা বলেছেন।

গত সোমবার সালাহ আদালতে বলেছেন, আমি মেনে নিচ্ছি, আমি ভুল করেছি। কিন্তু আমি হত্যাকারী নই। সরকারি আইনজীবীদের বক্তব্য, এখন শাস্তি কম করতে এসব আবেগের কথা বলছে সালাহ।