দেশের লাখ লাখ পথশিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও সনদের বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পথশিশুদের জন্মনিবন্ধন ও জন্ম সনদ দেওয়ার প্রশ্নে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
গত মাসের ২০ মে বেসরকারি সংগঠন ‘স্পোর্টস ফর হোপ অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্স’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। ব্যারিস্টার তাপস দেশ রূপান্তরকে বলেন, পথশিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও জন্মসনদের বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) গত ২৫ এপ্রিল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তারা এর কোনো প্রতিউত্তর দেননি। এর ধারাবাহিকতায় জনস্বার্থ বিবেচনায় হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘জন্মসনদের সুযোগই নেই পথশিশুদের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, সারা দেশে পথশিশুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। কারা পথশিশু সে বিষয়ে কোনো সংজ্ঞাও নির্ধারণ হয়নি এখনো। বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের হিসেবে সারাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। ঢাকায় এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। শিশুর পিতৃ, মাতৃপরিচয় ও ঠিকানা না থাকা, শিশুর ধর্ম নির্ধারণ করতে না পারা, নিবন্ধন নিয়ে শিশুর অজ্ঞতা ও ফি দিতে না পারায় তাদের জন্ম নিবন্ধন হয় না।
পারিবারিক সান্নিধ্য ও জন্মসনদ না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা তো নয়ই, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন পরিষেবা থেকে তারা বঞ্চিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৮ সালের জন্ম/মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পিতৃপরিচয়হীন, এতিম শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে যেসব তথ্যের ঘাটতি বা অসম্পূর্ণ থাকবে সেখানে ‘অপ্রাপ্য’ লিখে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন করতে হবে।
আজ প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী। শুনানি নিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষপ জানতে চায় হাইকোর্ট।
রুলে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এবং জন্মমৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী পথশিশুদের জন্ম সনদ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, গত ২৫ এপ্রিল রিট আবেদনকারীর নোটিশের প্রেক্ষিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট।