কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় একটি ষাঁড়ের নাম ‘কিং অব কুড়িগ্রাম’ অর্থাৎ কুড়িগ্রামের রাজা। গরুটির দাম ১০ লাখ টাকা আশা করছেন উপজেলার চাকিরপাশা ইউনিয়নের পাঠান পাড়া গ্রামের ছোট খামারি পারুল বেগম।
সাড়ে তিন বছর বয়সী ১ হাজার কেজি ওজনের কিং অব কুড়িগ্রামকে দেখতে প্রতিদিন তার খামারে ভিড় করছে অনেক দর্শনার্থী।
কুড়িগ্রাম প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে ছোট-বড় গরুর খামারের সংখ্যা ১ হাজার ৭০টি। আর গরুর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখেরও বেশি। তাদের তথ্য মতে, রাজারহাট উপজেলার ‘কিং অফ কুড়িগ্রাম’ ষাঁড়টি জেলায় সবচেয়ে বড়।
উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের চাকিরপশার পাঠকপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর স্ত্রী পারুল বেগম ৭ বছর আগে ৩টি বকনা বাছুর দিয়ে একটি খামার শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে এই খামারে গরু বাড়তে থাকে। খামার দেওয়ার ২ বছর পর থেকে প্রতিবছর একটি করে গরু তিনি বিক্রি করেন। বর্তমানে দুটি ষাঁড়, ৩টি বকনা বাছুর ও ৩টি গাভীসহ তার খামারে গরু রয়েছে মোট ৮টি।
সাড়ে ৩ বছর পূর্বে একটি হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী থেকে জন্ম নেয় একটি বাছুর। ক্রমাগতভাবে বাছুরটি বাড়তে থাকে। বর্তমানে বাছুরটি একটি বিশাল ষাঁড়ে পরিণত হওয়ায় খামারের মালিক পারুল বেগমের স্বামী নাম রেখেছেন ‘কিং অব কুড়িগ্রাম’।
পারুল বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেও একাধিক ষাঁড় বিক্রি করেছিলেন তারা। তবে এটি এত বিশাল আকৃতির হবে বুঝতেও পারেননি।
বর্তমানে ষাঁড়টির ওজন হয়েছে প্রায় ১ হাজার কেজি। প্রতিদিন ১০ কেজি দানাদার খাদ্যসহ খড় ও কাঁচা ঘাস খাওয়াতে দিনে সাড়ে ৩শ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।
খামারী পারুল বেগমের ছেলে রিয়াদ বলেন, গরুটি আমার বাবার শখের, মা গরুটিকে লালনপালন করছেন। ‘কিং অব কুড়িগ্রাম’ দেখতে খুব সুন্দর তাই আশপাশের লোকজন দেখতে আসেন বাড়িতে। আবার বাড়ি পাশে বড় হাট না থাকায় হাটে তুলতে পারছি না। এখন পর্যন্ত বাড়িতে এসে ৬ লাখ টাকা দাম বলে গেছে। আমরা এর চেয়েও আরও বেশি আশা করছি, দেখা যাক কী হয়।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেনারি সার্জন পবিত্র কুমার বলেন, আমাদের অফিসের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ষাঁড়টি লালিত-পালিত হয়েছে। ষাঁড়টি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি হলে এই এলাকার অন্যান্য খামারিরা উৎসাহিত হবে। খামারের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।